অন্নপূর্ণা পাবেন না সিভিক-আশাকর্মীরা, বাদ অঙ্গনওয়াড়িরাও; ফর্ম ‘এডিট’ করার সুযোগ আবেদনকারীদের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনা? গত দু’মাস ধরে এই প্রশ্ন এবং ধন্দই ছিল রাজ্যের আম জনতার নিত্যসঙ্গী। অবশেষে নতুন কিছু কড়া শর্ত ও নিয়মাবলির মাধ্যমে সেই ‘সংশয়’ স্পষ্ট করে দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এক পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস) সূত্রে জানা গিয়েছে— আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক এবং সিভিক ভলান্টিয়াররাও এবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।


মূল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কোনও মহিলা সরকারি চাকরি করলে বা আয়কর দিলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। তবে নতুন নিয়মে স্পষ্ট— সরকারি খাত থেকে সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পেলেই আর অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় নাম তোলা যাবে না। এছাড়া আবেদনকারীর পরিবারে কেউ সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী বা আয়করদাতা থাকলেও আবেদন খারিজ হবে।
কড়া নিয়মে ছাঁটাইয়ের মুখে ২৮ লক্ষ আবেদনকারী!
প্রকৃত প্রান্তিক এবং অভাবী পরিবারের মহিলারাই যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার কড়া স্ক্রুটিনির নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে বিক্ষোভের জেরে ফের যাচাইয়ের মুখে পড়া ২৮ লক্ষ আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
কারা বাদ পড়তে পারেন?
- আবেদনকারীর পরিবারের কারও জিএসটি (GST) নম্বর থাকলে।
- বাড়িতে ৩টি পাকা ঘর থাকলে।
- ৫০ ডেসিমেল বা তার বেশি জমির মালিক হলে।
এইসব ক্ষেত্রে আধিকারিকরা সরাসরি বাড়িতে গিয়ে ভেরিফিকেশন বা যাচাই করবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে এই ধরনের আবেদনকারীদের নাম প্রাপক তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।
ক্ষুব্ধ আশা-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা: টাকা ফেরতের নির্দেশ!
এই নতুন নির্দেশিকায় চরম বিপাকে পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মীরা। সূত্রের খবর, ইতিমদ্ধেই তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছিল, যা এখন সরকারি নির্দেশে ফেরত চাওয়া হচ্ছে। বিডিও অফিস থেকে তাঁদের লিখে দিতে বলা হচ্ছে যে তাঁরা আর টাকা নেবেন না।
“রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে মেয়েরা মর্মাহত, ক্ষুব্ধ। আগের সরকারের সময়ে আমরা দেড় হাজার টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতাম। যারা যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছে, বিডিও অফিস থেকে বলা হচ্ছিল কাগজে লিখে দিন আমরা টাকা নেব না, এই বলে টাকা ফেরত দিয়ে দিন। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” — ইসমত আরা খাতুন, রাজ্য সম্পাদিকা, পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন।
স্বস্তি দিয়ে চালু হলো ‘এডিট অপশন’
আটকে থাকা আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর। পোর্টালে চালু করা হয়েছে ‘এডিট অপশন (Edit Option)’। এর ফলে:
- আবেদনকারীর নাম বা তথ্য সংক্রান্ত কোনও ভুল থাকলে জেলা আধিকারিকদের সহযোগিতায় পোর্টালে ঢুকে তা সংশোধন বা ‘এডিট’ করা যাবে।
- দ্রুত কাজের স্বার্থে আধিকারিকের সুপারিশপত্র আপলোড করা বাধ্যতামূলক রাখা হচ্ছে না (তবে সিল ও সই-সহ হার্ড কপি সংরক্ষণ করতে হবে)।
১০ জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ করার ডেডলাইন
যাচাইয়ের গতি বাড়াতে জেলা প্রশাসনকে সিডিপিও, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা, সুপারভাইজার এবং আগ্রহী বিএলও (BLO)-দের কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া এবং বর্তমানে যাচাইয়ের অধীনে থাকা সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে যোগ্যদের তালিকাভুক্তির কাজ ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সময়সীমার মধ্যে অফলাইনে জমা পড়া সমস্ত আবেদনের ডিজিটাইজেশনের কাজও শেষ করতে হবে।












