‘ও বরাবরই নোংরা, দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে’, বারুইপুর এনকাউন্টারে নিহত স্বামীর প্রতি একরাশ ক্ষোভ স্ত্রীর!

বারুইপুর: যোগীরাজ্যের ধাঁচে এনকাউন্টার এবার বাংলাতেও। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হলো বারুইপুর খুন ও ধর্ষণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপে শুধু আমজনতাই নয়, স্বস্তি পেয়েছেন খোদ নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতিক্রিয়া মিলেছে অভিযুক্তের নিজের ঘর থেকেই। প্রভাসের স্ত্রীর সাফ কথা, “ও বরাবরই নোংরা। দোষ করেছে, তাই গুলি খেয়েছে।”

🛑 পরিবারের চরম ক্ষোভ, দেহ নিতেও অনীহা
বুধবার সকালেই পুলিশের তরফে প্রভাস মণ্ডলের বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর পাঠানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল সাফ জানিয়ে দেন, যা হয়েছে একদম ঠিক হয়েছে! তাঁরা কেউ প্রভাসের দেহ নিতে যাবেন না।
স্বামীর মৃত্যুর খবরে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রভাসের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“ও বরাবরই নোংরা। তাই এই কাজ ও করেনি—এমন দাবি আমি করতে পারব না। ও করতেই পারে, ও সব পারে! আমার বিয়ের পর ও কম অন্যায় করেনি, চরম অত্যাচারও করেছে। সেইসব সহ্য করেই এতদিন সংসার করেছি। দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে।”
যদিও পরে থানার তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে, পরিবারের বাকিরা রাজি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রভাসের মা ও স্ত্রী দেহের দাবি জানাতে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অন্যদিকে, প্রভাসের প্রতিবেশীরাও পুলিশের এই পদক্ষেপে অত্যন্ত খুশি। সকলের মুখেই এক কথা, “যে ভয়ঙ্কর অন্যায় প্রভাস করেছে, তার এই শাস্তিই পাওনা ছিল।”
🔍 কীভাবে ঘটল এই এনকাউন্টার?
বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করেই উদ্ধার করা হয়েছিল নাবালিকার বস্তাবন্দি নিথর দেহ।
- ঘটনার সময়: মঙ্গলবার গভীর রাত।
- স্থান: বারুইপুরের সূর্যপুর (ঘটনাস্থল)।
- পুলিশের দাবি: ধৃত প্রভাসকে নিয়ে রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) করতে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে তদন্তকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রভাস এবং পালানোর চেষ্টা করে।
- পাল্টা গুলি: আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত প্রভাসকে দ্রুত বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।












