ম্যাচে পাঁচ আর্জেন্টাইন রেফারি, গুরুত্বই দিচ্ছেন না এমবাপে!
INTERNET: আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কি তবে কাতার বিশ্বকাপের অ্যাকশন রিপ্লে হতে চলেছে? ফুটবলপ্রেমীদের মনে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—ফাইনালে কি ফের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স? তবে তার আগে বস্টনে হতে চলেছে কাতার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি। কোয়ার্টার ফাইনালেই মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো।


গত বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বফুটবলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল মরক্কো। এবার সেই মরক্কোর সঙ্গেই কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হচ্ছে ফ্রান্সের। তবে মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও ফরাসি শিবিরের আসল মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য এক দেশ—আর্জেন্টিনা!
রেফারি প্যানেল নিয়ে ফরাসি শিবিরে আতঙ্ক
স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে, ফাইনালের আগে তো ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই, তাহলে আর্জেন্টিনা কেন মাথা ব্যথার কারণ? আসলে, দেশ হিসেবে আর্জেন্টিনা মাঠে না নামলেও, ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচটি পরিচালনার পুরো দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনার রেফারিদের হাতে। আর যা নিয়ে ম্যাচের আগেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ফরাসি শিবির।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক ম্যাচের রেফারিদের তালিকা:
- প্রধান রেফারি: ফাকুন্দো তেলো (আর্জেন্টিনা)
- সহকারী রেফারি ১: গ্যাব্রিয়েল চাদে (আর্জেন্টিনা)
- সহকারী রেফারি ২: এজেকুয়েল ব্রাইলোভস্কি (আর্জেন্টিনা)
- চতুর্থ রেফারি: ইয়াফেল ফ্যালকন পেরেজ (আর্জেন্টিনা)
প্রধান রেফারি ফাকুন্দো তেলোকে নিয়েই ফরাসি শিবিরের মূল ক্ষোভ এবং আতঙ্ক। কারণ, কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো যখন পর্তুগালকে হারিয়েছিল, তখনও রেফারি ছিলেন এই ফাকুন্দো। সেই ম্যাচ হেরে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার পেপে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে টিকে থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারি দেওয়া হলো।
মিশর ম্যাচের পর থেকেই চারিদিকে গুঞ্জন চলছে, ফিফা নাকি ফের মেসিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলতে চাইছে। ফলে ফরাসি শিবিরের আশঙ্কা, রেফারির কোনো সিদ্ধান্তে মরক্কো সুবিধা পেয়ে গেলে পরোক্ষভাবে লাভবান হবে আর্জেন্টিনাই।
দেশঁ-র নতুন চাল: ‘ফ্রি’ ফুটবলার এমবাপে
ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ আপাতত রেফারি বিতর্ক নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে দলকে তৈরি করছেন নিজের মতো করে। মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি দলকে নামাতে চলেছেন ৪-২-৩-১ সিস্টেমে। এই নতুন ফর্মেশনের মাধ্যমে ড্রেসিংরুমের ভেতরের একটি বড় বিতর্কের অবসান ঘটাতে চাইছেন কোচ।
নতুন সিস্টেমে দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেকে ‘ফ্রি ফুটবলার’ হিসেবে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এতদিন উইংয়ে আটকে থাকায় এমবাপের মনে যে সাময়িক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা এই নতুন পজিশনের মাধ্যমে দূর হবে বলে মনে করছেন দেশঁ।
মাঠের লড়াই: দুই বন্ধু এমবাপে ও হাকিমি
এই ম্যাচটি আরও একটি কারণে জমজমাট—মাঠের ভেতরে কিলিয়ান এমবাপে বনাম আশরাফ হাকিমির লড়াই। পিএসজিতে একসঙ্গে খেলার সুবাদে দু’জনের মধ্যে রয়েছে গভীর বন্ধুত্ব।
হাকিমিকে নিজের ভাইয়ের মতো উল্লেখ করে এমবাপে বলেন:
“ওকে বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক বলা যেতে পারে। আমি জানি, মাঠের ভেতর ও আমাকে এক ইঞ্চিও জায়গা দেবে না। গতবার ওদের হারিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। মরক্কো খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। তবে আমরাও সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য যা যা করার করব।”
রেফারি বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন এমবাপে
মাঠের বাইরে পুরো রেফারি প্যানেল আর্জেন্টিনার হওয়া নিয়ে চারিদিকে যখন তুমুল বিতর্ক, তখন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপে একে একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। মাছি তাড়ানোর মতো করে বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন:
“কে, কোন দেশের রেফারি, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। আমার কাজ মাঠে গোল করে দেশকে জেতানো। রেফারি যে দেশেরই হোক, আমার কোনো চিন্তা নেই।”
মাঠের ভেতরে এমবাপেকে চিন্তায় ফেলার মতো প্রতিপক্ষ খুব কমই আছে। মরক্কো ম্যাচের আগে ফরাসি তারকার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী যেন তিনি নিজেই, শুধু ম্যাচের দিন মেজাজটা ঠিক থাকলেই হলো!










