বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

বিধানসভার অধিবেশনেরও লাইভ সম্প্রচার হবে

Published on: May 15, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে এবার থেকে এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে। লোকসভা ও রাজ্যসভার মতোই এখন থেকে বাংলার বিধানসভার সমস্ত কাজকর্মের সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ স্ট্রিমিং) করা হবে। শুক্রবার অষ্টাদশ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু নির্বাচিত হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় স্পষ্ট জানান, বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই জনগণের প্রতিনিধি। তাই ভেতরে সরকার কী কাজ করছে বা বিরোধীরা কী ভূমিকা পালন করছে, তা জানার পূর্ণ অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। এখানে গোপনীয়তার কোনো জায়গা নেই, বরং জনগণের এই নজরদারি থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।


📺 আগের সরকারের সঙ্গে ফারাক

সূত্রের খবর, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলেও লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা ছিল, তবে তা প্রতিদিন করা হতো না। বাজেট পেশ বা মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মতো বিশেষ কিছু দিনেই শুধু সরাসরি সম্প্রচার দেখা যেত। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে অধিবেশনের প্রতিটি দিনই লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে। সরকারের এই স্বচ্ছ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

🏛️ স্পিকার নির্বাচন ও সৌজন্যের আবহ

এ দিন বিধানসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধ্বনি ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্রনাথ বসু। নির্বাচনের পর প্রথামাফিক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যৌথভাবে নবনির্বাচিত স্পিকারকে তাঁর আসনে বসিয়ে দেন। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।


🤝 বিরোধীদের প্রতি বার্তা ও পুরোনো সরকারের সমালোচনা

নতুন স্পিকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেন। পূর্বতন সরকারকে কিছুটা খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন:

  • গঠনমূলক বিরোধিতা: বিধানসভা মারামারি বা অশান্তির জায়গা নয়, এখানে সুস্থ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
  • সমান সুযোগ: সংবিধানে বলা আছে “House belongs to the Opposition” (সভা বিরোধীদের)। তাই শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই যেন ৫০-৫০ অনুপাতে কথা বলার সমান সুযোগ পায়।
  • রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়: অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক কারণে যেন কোনো বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বিধানসভার বাইরে আটকে রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

সামগ্রিকভাবে, বিধানসভার এই লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে

Join Telegram

Join Now