স্বাস্থ্যভবনে কন্ট্রোল রুম, সব হাসপাতালে চলবে কড়া নজরদারি! ‘দালালচক্র মুক্ত হবেই’, হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিকে দালালমুক্ত করতে এবং চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়নে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। স্বাস্থ্যভবনে তৈরি করা হলো একটি আধুনিক সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম, যেখান থেকে সরাসরি নজরদারি চালানো হবে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার নবনির্মিত এই কন্ট্রোল রুমটি সশরীরে ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “সরকারি হাসপাতালগুলিকে সম্পূর্ণভাবে দালালচক্র থেকে মুক্ত করা হবে।”

কীভাবে কাজ করবে এই কন্ট্রোল রুম?
হাসপাতালগুলিতে কীভাবে নজরদারি চালানো হবে এবং দালালদের চিহ্নিত করা হবে, তার একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন:
“হাসপাতালে কোনও এক ব্যক্তিকে যদি পরপর ২ দিন সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, তা হলেই বোঝা যাবে কিছু গোলমাল আছে। কোনও সাধারণ রোগী নিশ্চয়ই পরপর ২ দিন আল্টাসোনোগ্রাফি করতে আসবেন না।”
ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে এই ধরণের গতিবিধি ট্র্যাক করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশের আশ্বাস
মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালগুলির পরিবেশের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে ভালো পরিবেশের জন্য এই নজরদারি দরকার। আমাদের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তাঁদের শুধু নির্ভয়ে কাজ করার সঠিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বও সরকার নেবে।” ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেখানকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
নিউ টাউনে আদানির ২০০০ বেডের হাসপাতাল, গরিবদের জন্য বিরাট সুখবর
রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামোয় এক মহাবিপ্লবের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর তৈরি করা ২০০০ বেডের বিশাল হাসপাতালের উদ্বোধন খুব শীঘ্রই হতে চলেছে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১০০০টি বেড সম্পূর্ণভাবে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
পুজোতেই এসএসকেএম-এ বাড়ছে শয্যা, ঢেলে সাজানো হচ্ছে ট্রমা কেয়ার
রাজ্যের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সমস্ত হাসপাতালেই শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
- এসএসকেএম হাসপাতাল: আসন্ন দুর্গাপুজোর মধ্যেই এই হাসপাতালে আরও ২০০ থেকে ২৫০টি শয্যা বাড়ানো হবে। এর ফলে এখানকার আইসিইউ (ICU) বেডের সংখ্যা ১১২ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২০০-এ।
- ট্রমা কেয়ারের আধুনিকীকরণ: তারাতলার সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান ট্রমা কেয়ার ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ট্রমা কেয়ার পর্যাপ্ত নয়। এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যাতে এক মিনিটে অন্তত ২৫০ জনকে জরুরি পরিষেবা দেওয়া যায়।” এই লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবকে দ্রুত উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও আমজনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন সরকারের এই কড়া ও দূরদর্শী পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।












