বঙ্গের মসনদে পালাবদল: ব্রিগেডে শুভেন্দুর রাজকীয় শপথ, চাঁদের হাট টলিপাড়ার
কলকাতা: গঙ্গার পাড়ে রাজনীতির এক নতুন সূর্যোদয়। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে রাজনীতির কুশীলবদের পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল টলিপাড়ার একঝাঁক মহাতারকার উপস্থিতি।

দর্শকাসনে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ ও গ্ল্যামার দুনিয়া
পরিবর্তনের হাওয়া যে টলিউডকেও স্পর্শ করেছে, তার প্রমাণ মিলল শপথগ্রহণের দর্শকাসনে।

- একেবারে প্রথম সারিতে বসে থাকতে দেখা গেল টলিউডের অভিভাবক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর ঠিক পাশেই ছিলেন অভিনেতা জিশু সেনগুপ্ত।
- উপস্থিত ছিলেন টলিউডের অন্যতম মহাতারকা জিৎ, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী এবং অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী।
শিল্পীদের জন্য বিশেষ আসনের ব্যবস্থা ছিল। এই হাই-প্রোফাইল অতিথিদের অভ্যর্থনা ও আলাপচারিতায় বিশেষ সক্রিয় থাকতে দেখা যায় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে।
শিল্পী মনে আশা ও আশঙ্কার সুর
তৃণমূল জমানার একাধিক অভিযোগের পর নতুন সরকারকে নিয়ে টলিপাড়ার একাংশ যে যথেষ্ট আশাবাদী, তা স্পষ্ট হলো তাঁদের বক্তব্যে। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান:
“বেশ ভালো লাগছে, চারদিকে একটা খুশির আমেজ। আমি আশা করছি বাংলা তথা সারা ভারতের জন্য ভালো কিছু হবে। নতুন সরকারের কাছে অনুরোধ—সব মানুষকে এবং সব ধর্মকে ভালোবাসুন। আমরা যেন হিংসার পথ ছেড়ে ধৈর্যের পথে হাঁটতে পারি।”
সুপারস্টার জিৎ অবশ্য কিছুটা সংযত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বিশেষ মুখ না খুলে নীরবেই প্রস্থান করেন তিনি।
রুদ্রনীল ঘোষের জোরালো দাবি
নতুন এই রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়ে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেন, বাম ও তৃণমূল জমানায় যে দীর্ঘ স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটবে এবার। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের পেটে ভাত জোগানো আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এই সরকারের লক্ষ্য। শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়েও ভয়ের কিছু নেই; শুভেন্দু অধিকারী মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা দিয়ে নিজের দায়িত্ব যথাযথ পালন করবেন।”
উপসংহার
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও নক্ষত্র সমাবেশ চোখে পড়ত। এবার পালাবদলের পরে টলিপাড়ার ক্ষমতার ভরকেন্দ্রও যে বদলে গিয়েছে, ব্রিগেডের ছবিটাই তার বড় প্রমাণ। প্রশাসনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি শিল্পমহলের এই আনুগত্য বদল বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।










