বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

২৯৪ আসনের গণনা হবে ৭৭ কেন্দ্রে

Published on: May 1, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

২৯৪ আসনের গণনা হবে ৭৭ কেন্দ্রে, জানাল নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক আগে প্রশাসনিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে, যখন নির্বাচন কমিশন রাজ্যে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এবার ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা হবে মোট ৭৭টি কেন্দ্রে, যা পূর্বে নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন গণনা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, ফলে স্বাভাবিকভাবেই এর তাৎপর্য ও প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১০৮টি, যা তখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছিল। চলতি নির্বাচনে প্রথমে সেই সংখ্যা কমিয়ে ৮৭ করা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১০টি কমিয়ে তা ৭৭-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এই ধারাবাহিক পুনর্বিন্যাসের ফলে প্রশাসনিক পরিকল্পনায় একটি বড় পরিবর্তন এসেছে, যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। বিশেষ করে ভোটগণনার মাত্র কয়েক দিন আগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল এই প্রসঙ্গে জানান, প্রয়োজন হলে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমানোও হতে পারে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে, যাতে গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও জানান যে, তিনি নিজেও একাধিক গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন, যাতে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়।

গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমানোর এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক বিধানসভা আসনের ভোটগণনা হবে, যা প্রশাসনিক দিক থেকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বেশি সংখ্যক ইভিএম এবং গণনাকর্মীকে একই স্থানে সমন্বয় করে কাজ চালানো সহজ নয়। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই পুনর্বিন্যাসের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে এবং নজরদারি আরও কার্যকরভাবে করা যাবে।

জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা হবে মোট পাঁচটি কেন্দ্রে। উত্তর ২৪ পরগনায়, যেখানে সর্বাধিক ৩৩টি আসন রয়েছে, সেখানে আটটি কেন্দ্রে ভোটগণনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ছয়টি গণনাকেন্দ্র। অন্যান্য জেলাগুলির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যক কেন্দ্রে গণনা হবে, যেমন আলিপুরদুয়ারে একটি, কোচবিহারে পাঁচটি, উত্তর দিনাজপুরে দুটি, দক্ষিণ দিনাজপুরে দুটি, দার্জিলিঙে তিনটি, জলপাইগুড়িতে দুটি, হুগলিতে পাঁচটি, হাওড়ায় চারটি, ঝাড়গ্রামে একটি, কালিম্পঙে একটি, মালদহে দুটি, মুর্শিদাবাদে পাঁচটি, নদিয়ায় চারটি, পূর্ব বর্ধমানে চারটি, পশ্চিম বর্ধমানে দুটি, পশ্চিম মেদিনীপুরে তিনটি, পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি, পুরুলিয়ায় তিনটি, বাঁকুড়ায় তিনটি এবং বীরভূমে তিনটি গণনাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পুনর্বিন্যাসের ফলে প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির সমন্বয়ে একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে, যাতে গণনার প্রতিটি ধাপ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি, প্রতিটি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের উপস্থিতির সুযোগ রাখা হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং কোনও পক্ষের মধ্যে সন্দেহের অবকাশ না থাকে।

তবে শাসকদলের অভিযোগ, এই ধরনের সিদ্ধান্ত এত অল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া হলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমাতে পারে। তাঁদের মতে, গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে দিলে প্রশাসনিক চাপ বাড়বে এবং পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির সরাসরি জবাব দেওয়া হয়নি, তবুও তারা তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি হিসেবে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার বিষয়টি তুলে ধরছে।

সব মিলিয়ে, ভোটগণনার আগে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমানোর এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে কমিশন এটি প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এর সময় নির্বাচন এবং প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন নজর থাকবে গণনার দিন এই ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন থাকে।

Join Telegram

Join Now