তারাতলা বিপর্যয়ের পরই নবান্নে জরুরি বৈঠক: বেআইনি নির্মাণ ও অগ্নিসুরক্ষা রুখতে একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরের বেআইনি নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক ভবন ও বহুতলগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে রাজ্য প্রশাসন এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে।

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দপ্তরের সচিব খলিল আহমেদ, কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক এবং পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠক থেকে ‘স্পেশাল অডিট’ ও ‘ফায়ার অডিট’ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:
- ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ‘স্পেশাল অডিট’: আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতার সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতল এবং বাণিজ্যিক ভবনে (Commercial Building) বাধ্যতামূলকভাবে ‘স্পেশাল অডিট’ বা বিশেষ পর্যালোচনা চালানো হবে।
- অডিটের পরিধি বিস্তার: আগে শুধুমাত্র কলকাতা পুর এলাকা, রাজারহাট-নিউ টাউন, সোনারপুর ও বজবজ এলাকায় এই অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ দিনের বৈঠকে এর পরিধি আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ দমদম, বরাহনগর এবং কামারহাটি এলাকাকেও যুক্ত করা হয়েছে।
- রিপোর্টের ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ: অডিট রিপোর্টের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—
- নির্মাণে বড়সড় গলদ থাকলে বহুতলের আবেদন সম্পূর্ণ বাতিল (Reject) করা হতে পারে।
- কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের (Rectify) নির্দেশ দেওয়া হবে।
- সব নিয়ম মেনে কাজ হলে তবেই মিলবে ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা ছাড়পত্র।
- ফায়ার ও লাইটনিং অডিট: আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সমস্ত হাইরাইজ় বিল্ডিংয়ের ‘ফায়ার অ্যান্ড লাইটনিং অ্যারেস্টার’ (অগ্নি ও বজ্রপাত সুরক্ষা ব্যবস্থা) অডিট করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘হাইরাইজ়’ ভবনের নতুন সংজ্ঞা ও নিয়মাবলি:
কোন আবাসনগুলি এই বিশেষ অডিটের আওতায় আসবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী:
- জি প্লাস ফাইভ (G+5): গ্রাউন্ড ফ্লোর বা একতলা এবং তার ওপরে পাঁচ তলা (বা তার বেশি উঁচু) সমস্ত আবাসনকেই ‘হাইরাইজ়’ হিসেবে গণ্য করে এই অডিটের আওতায় রাখা হবে।
- ছাড়: কোনো সাধারণ আবাসিক ভবনের সংস্কার (Renovation) বা পুরোনো প্ল্যান অনুযায়ী এক্সটেনশন বা সম্প্রসারণের কাজ এই অডিটের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।
“মানুষের জীবনের দাম আছে” এ দিনের বৈঠক শেষে শুভেন্দু বাবু জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই নগরায়ন বন্ধ করা নয়। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থেই এই সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিল্ডিং প্ল্যান অডিটের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক বহুতলগুলিতে কঠোরভাবে ফায়ার অডিট করা হবে।












