তৃণমূলের মেগা রদবদল! অভিষেকের একার কাঁধে আর নয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দোলা ও ডেরেক; নতুন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল ঘটালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যখন নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় চাপিয়ে দলের একাধিক বিধায়ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, অন্যদিকে তখন তাঁর বিরুদ্ধে সই জালিয়াতি, চাকরি দুর্নীতি ও বিরোধীদের হুমকির মতো একাধিক মামলা ঝুলছে। কালীঘাটের বাড়িতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নিত্য আনাগোনার মাঝেই দলনেত্রী স্পষ্ট করে দিলেন—একা অভিষেকের ওপর আর দলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকছে না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কালীঘাটের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নতুন কমিটি ও একঝাঁক নতুন মুখের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
👥 সর্বভারতীয় স্তরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
দলের সাংগঠনিক রাশ পুরোপুরি একজনের হাতে না রেখে তা ভাগ করে দেওয়া হলো। এবার থেকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব একা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর সঙ্গে যুগ্ম জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সামলাবেন:
- দোলা সেন
- ডেরেক-ও-ব্রায়েন
🏛️ রাজ্য নেতৃত্বে বড় চমক
- নতুন রাজ্য সভাপতি: সুব্রত বক্সীর জায়গায় দলের নতুন রাজ্য সভাপতি করা হলো বর্ষীয়ান নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-কে।
- শ্রমিক ও হকার সংগঠন: বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হলো মলয় ঘটক-কে। পাশাপাশি, হকার সংগঠনের জন্য আলাদাভাবে দায়িত্ব পেলেন মদন মিত্র।
- মহিলা ও লিগ্যাল সেল: মহিলা সংগঠনের দায়িত্বে থাকছেন মালা রায় এবং লিগ্যাল সেলের রাশ দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাতে।
🎓 ছাত্র ও যুব সংগঠনে রদবদল
- যুব সংগঠনে সায়নী ঘোষ নিজের দায়িত্বে বহাল থাকলেও, ছাত্র সংগঠনে আনা হয়েছে বড় রদবদল।
- প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য করার অপরাধে ছাত্র নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য-কে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- তাঁর জায়গায় ছাত্র সংগঠনের নতুন মুখ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো প্রিয়াঙ্কা অধিকারী-কে।
🎙️ দলের নতুন মুখপাত্র প্যানেল
সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য চারজনকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:
কুণাল ঘোষ, শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক-ও-ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
📌 বিশেষ দ্রষ্টব্য: দলে এত রদবদল হলেও, জেলা স্তরের রাশ কিন্তু নিজের হাতেই রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় জেলায় সভাপতি বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন।











