বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল

Published on: July 3, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল হওয়ায় চরম বিতর্ক! কী যুক্তি ‘ভার’-এর? ব্যাখ্যা দিল ফিফা

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্ত। পর্তুগালের বিরুদ্ধে সমতা ফিরিয়ে লুকা মদ্রিচেরা তখন বুনো উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা। নতুন করে লড়াইয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক সেকেন্ড। রেফারি জানিয়ে দিলেন— গোল নয়, অফসাইড! ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ‘ভার’ (VAR)-এর পরামর্শে মাঠের রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল ক্রোয়েশিয়া শিবির। এই একটি সিদ্ধান্তই চলতি বিশ্বকাপে মদ্রিচদের সব আশা এক ঝটকায় শেষ করে দিল।

সহকারী রেফারি লাইনে দাঁড়িয়ে অফসাইডের কোনো সঙ্কেত দেননি। তা সত্ত্বেও কেন বাতিল হলো জসকো ভার্দিওলের সেই নাটকীয় গোল? তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই বিতর্কের অবসান ঘটাতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও যুক্তি সামনে এনেছে ফিফা।

মাঠে ঠিক কী ঘটেছিল?

পর্তুগালের রেনাতো ভেগার মাথায় লেগে বল গিয়েছিল কিছুটা এগিয়ে থাকা ইভান পেরিসিচের কাছে। পেরিসিচ দারুণ দক্ষতায় বল বাড়ান মারিয়ো পাসালিচকে। পাসালিচ আবার পাস দেন জসকো ভার্দিওলকে। নিখুঁত শটে বলে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ভার্দিওল। গোল হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগাল শিবির। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল। ‘ভার’ পরীক্ষার পর রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দিতেই থমকে যাওয়া পর্তুগাল শিবিরে শুরু হয় জয়ের উদ্‌যাপন, আর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার ও সমর্থকেরা।

কেন বাতিল হলো গোল? ‘ভার’-এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ

সাধারণ ভিডিও রিপ্লেতে যা ধরা পড়েনি, ‘ভার’ প্রযুক্তির চোখে তা এড়ায়নি। ঘটনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে ফিফা ও ‘ভার’ প্যানেল জানিয়েছে:

  • পেরিসিচের ক্রসটি পাসালিচের কাছে পৌঁছানোর ঠিক আগের মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচ বলটি হালকা স্পর্শ করেছিলেন।
  • এই স্পর্শটি এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে খালি চোখে বা সাধারণ টেলিভিশনের পর্দায় তা বোঝাই যায়নি।
  • ফুটবল নিয়ম অনুযায়ী, মাতানোভিচ যখন বলটি ছুঁয়েছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে পাসালিচ অফসাইড পজিশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন
  • যেহেতু অফসাইডে থাকা পাসালিচের পাস থেকেই ভার্দিওল গোলটি করেন, তাই আক্রমণের শুরুতেই অফসাইড হয়ে যাওয়ায় নিয়ম মেনে গোলটি বাতিল করতে বাধ্য হন রেফারি।

ফিফার টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা: বলের ভেতরের ‘চিপ’ই আসল খলনায়ক!

ফিফা জানিয়েছে, এই নিখুঁত ও কঠিন সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলের ভেতরে থাকা মোশন সেন্সর চিপ

“এই আধুনিক প্রযুক্তিটি বলের ওপর হওয়া প্রতি মিলি-সেকেন্ডের স্পর্শ অনুভব করতে পারে এবং তা সাথে সাথে নথিবদ্ধ করে। মানুষের চোখ বা সাধারণ ক্যামেরা যা ধরতে পারে না, এই চিপ তা সহজেই ধরে ফেলে। ‘ভার’ রুম এই চিপের ডেটার সাথে ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’ মিলিয়ে দেখার পরই নিশ্চিত হয়েছে যে পাসালিচ অফসাইডেই ছিলেন।” — ফিফা

মাঠে চরম উত্তেজনা, বোতল বৃষ্টি গ্যালারিতে

ফিফা ও প্রযুক্তির এই সূক্ষ্ম যুক্তি অবশ্য মানতে পারছেন না ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফুটবলাররা। তাঁরা মাঠের রেফারিকে ঘিরে ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানান। গ্যালারিতে থাকা ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকেরাও ক্ষোভ ও হতাশায় মাঠের ভেতর জলের বোতল ও ক্যান ছুড়তে শুরু করেন। ম্যাচ হারলেও এই ‘ভার’ বিতর্ক ফুটবল মহলে দীর্ঘদিন চর্চায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Join Telegram

Join Now