বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

“ভয় আউট, ভরসা ইন!” ভবানীপুরে উন্নয়নের বার্তা দিয়ে সরাসরি জনসংযোগের অভিনব উদ্যোগ শুভেন্দু অধিকারীর

Published on: May 18, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর ভবানীপুরের ঘরের ছেলে হিসেবে এবার উন্নয়নের হাল ধরলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর কেন্দ্রের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় সোমবার সন্ধ্যায় হাজির হয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ মেটাতে সরাসরি যোগাযোগের অভিনব বার্তা দিলেন তিনি।

আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে পুরো প্রতিবেদনটি আকর্ষণীয় ও গোছানো আকারে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:


‘ফোন নম্বর দিয়ে দেবো, সমস্যা জানাবেন’, ভবানীপুরে সরাসরি জনসংযোগের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের আমূল ভোলবদল করতে ময়দানে নামলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে এক বড় ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট জানালেন, ভবানীপুরের নাগরিকদের সমস্যার কথা সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘হেল্পলাইন’ বা ফোন নম্বর দেওয়া হবে, যেখানে নাগরিকেরা তাঁদের সব অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন।

ভবানীপুরের বিধায়ক হয়েই শপথ

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই হাইপ্রোফাইল আসন থেকেই লড়াই করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে নির্বাচনে জয়লাভের পর বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি ভবানীপুর আসনটিকে ধরে রেখেই শপথ নেন। মমতার দীর্ঘদিনের গড় হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্র থেকেই এবার রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে চান তিনি।


‘১৫ বছরের খরা কাটবে’, মমতাকে বিঁধে শুভেন্দুর বার্তা

সংবর্ধনা সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন:

“আমি মুখ্যমন্ত্রী, পুরো রাজ্যের দায়িত্ব আমার। কিন্তু ভবানীপুরে গত ১৫ বছরে বিধায়ক কেমন কী কাজ করেছেন, তা আপনারা জানতে পারেননি। সাধারণ মানুষ উন্নয়নের আলো দেখেননি। তবে এবার বদলটা আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন। শুধু ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদে (যা অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হতে পারে), ভবানীপুরের প্রতিটি জায়গায় আমি নিজে যাব এবং কাজ করব।”

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক বলে পরিচিত এই ভবানীপুর কেন্দ্রেই তাঁকে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ঘরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে শুভেন্দুর এই জয় বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।


“ভয় আউট, ভরসা ইন”

ভবানীপুরের ব্যবসায়ী ও আবাসনবাসীদের দীর্ঘদিনের ভীতি দূর করার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

  • “এই বিধানসভা কেন্দ্রে আগে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মোদীজির নেতৃত্বে এবার ‘ভয় আউট’ আর ‘ভরসা ইন’ হয়েছে।”
  • নির্বাচনের আগের দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা অনেকেই ভোট দেওয়ার আগে আশঙ্কায় ছিলেন, বলেছিলেন— ভোট তো দেবো, কিন্তু পরে আমাদের ওপর অত্যাচার হবে না তো? আমি তখন আপনাদের আশ্বস্ত করেছিলাম যে, এবার পশ্চিমবঙ্গের জনতা তৃণমূল কংগ্রেসকে উপড়ে ফেলে দেবে। আপনাদের এই ভাইয়ের কথা মিলে গিয়েছে তো?”

আগামী দিনের লক্ষ্য

মুখ্যমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা এবং সরাসরি ফোন নম্বর দিয়ে সমস্যা শোনার প্রতিশ্রুতি ভবানীপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী শুধু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং ভবানীপুরের ঘরের বিধায়ক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে চান যে— উন্নয়ন কেবল প্রতিশ্রুতিতে নয়, কাজে বিশ্বাসী।

Join Telegram

Join Now