‘হোক কোটি টাকার লোকসান, তবুও রণবীর সিংকে শক্তিমান হতে দেব না’! অনড় অবস্থান মুকেশ খান্নার

টেলিভিশনের জনপ্রিয় সুপারহিরো ‘শক্তিমান’ হিসেবে পরিচিত মুকেশ খান্না স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রণবীর সিংকে ওই চরিত্রে তিনি মানতে পারছেন না। নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে মুকেশ মানেই ‘শক্তিমান’ বা গঙ্গাধর এই পরিচিতিই তাঁর মূল পরিচয়। সেই আইকনিক চরিত্রকে বড়পর্দায় ফেরানোর পরিকল্পনা হয়েছিল, যেখানে মুখ্য ভূমিকায় ভাবা হয়েছিল রণবীর সিংকে।

এমনকি ২০২৫ সালে ছবির শুটিং শুরুর পরিকল্পনাও করেছিলেন নির্মাতারা। কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান মুকেশ খান্না। জানা যায়, রণবীর সিংকে দীর্ঘ সময় নিজের অফিসে অপেক্ষা করিয়েও অনুমোদন দেননি তিনি। সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি ঘিরে আলোচনার মধ্যেই আবারও এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেতা।
এক সাক্ষাৎকারে মুকেশ খান্না জানান, অভিনেতা হিসেবে রণবীর সিংয়ের প্রতিভা নিয়ে তাঁর কোনও সংশয় নেই। তিনি মনে করেন, ‘ধুরন্ধর’, ‘গাল্লি বয়’ কিংবা ‘খিলজি’র মতো ভিন্নধর্মী চরিত্রে রণবীর নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তবে ‘শক্তিমান’-এর মতো চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে শুধু অভিনয় নয়, আরও কিছু বিশেষ গুণের প্রয়োজন বলেই মত তাঁর।
এই প্রসঙ্গে অক্ষয় কুমারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “শক্তিমান-এর চরিত্রে অভিনয় করার জন্য যে বড় কোনও তারকাকেই কাস্ট করতে হবে, এমন নয়। আসলে এই চরিত্রের জন্য যথাযথ মুখের গড়ন প্রয়োজন। আমাকে বলুন, অক্ষয় কুমারকে কেন পৃথ্বীরাজ চৌহানের চরিত্রে মানায়নি? পরচুলা পরে, নকল গোফ-দাড়ি পরেছিলেন বলেই দর্শক অক্ষয়কে পৃথ্বীরাজের ভূমিকায় নিতে পারেনি। আমি যখন এধরনের চরিত্রে অভিনয় করতাম তখন প্রস্তুতির জন্যেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত।”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। মুকেশ খান্না আরও বলেন, “সোনি পিকচার্স ইতিমধ্যেই এই সিনেমা তৈরির ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। এমনকী আমাকেও কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি সাফ বলেছি দাঁড়ান, আমার এই কাস্টিং পছন্দ হয়নি। যদিও এটা আমারই ক্ষতি। শক্তিমান-এর ছাড়পত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে কোটি কোটি টাকা লোকসান করছি। কিন্তু তবুও রণবীর সিংকে শক্তিমানের চরিত্রে আমার পছন্দ নয়।”
উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর আগেই এই বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন মুকেশ খান্না। এমনকি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে রণবীর সিংকে নিজের অফিসে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানোর ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছিল। সে সময় তিনি বলেন, “আমি তো জোর করে ওঁকে অপেক্ষা করাইনি। ওঁর ইচ্ছে হয়েছে, তাই তিন ঘণ্টা ধরে আমার অফিসে বসেছিলেন।
রণবীর সিং আমার অফিসে আসেন। আমরা একে-অপরের সঙ্গ উপভোগ করি। ও নিঃসন্দেহে দারুণ একজন অভিনেতা। অসম্ভব এনার্জি রণবীরের মধ্যে। এখন আমার অফিসে যদি কেউ এসে বলেন, তিনি শক্তিমান হতে চান, আমি কখনোই অনুমতি দেব না।”
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য বড় আর্থিক ক্ষতির মুখেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন মুকেশ খান্না।











