ভয়ংকর স্টান্টের অভিজ্ঞতা শেয়ার অক্ষয়ের, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়িয়েছিলেন অভিনেতা
১৭ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে অক্ষয় কুমারের অভিনীত হরর-কমেডি ছবি ‘ভূত বাংলা’। মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি বক্স অফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের সাফল্যের খরা কাটাতে এই ছবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন ছবির মুক্তির পরই নিজের কেরিয়ারের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেতা। স্টান্ট করতে গিয়ে একাধিকবার প্রাণসংকটের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে।


বলিউডে নিজের স্টান্ট নিজে করার জন্যই বিশেষ পরিচিত অক্ষয় কুমার। খুব কম ক্ষেত্রেই তিনি বডি ডাবলের সাহায্য নেন। তবে এই ধরনের স্টান্টের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বড়সড় ঝুঁকি। অতীতে শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজকের মতো উন্নত ছিল না বলেই জানান অভিনেতা। আধুনিক প্রযুক্তি বা ভিএফএক্সের সুবিধা না থাকায় অনেক দৃশ্য বাস্তবেই করতে হত, যা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।
‘সৈনিক’ ছবির শুটিংয়ের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুটি বিল্ডিংয়ের মাঝে স্টান্ট করতে গিয়ে বড়সড় বিপদের মুখে পড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় শুটিং চলার ফলে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে শটটি সঠিকভাবে শেষ করতে পারবেন কি না তা নিয়েই সংশয়ে ছিলেন।
তাঁর কথায়, “সৈনিকের শুটিং চলাকালীন এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। সেই সময় মনে হচ্ছিল আমি বোধহয় পড়ে যাব। তখন তো প্রযুক্তি এত উন্নত হয়নি। ভিএফএক্সের কোনও সুযোগ সুবিধা ছিল না, সব নিজেকেই করতে হত। ‘ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি’ ছবিতে একটা নৌকার দৃশ্যে শট দেওয়ার সময় আমার শরীরের অর্ধেকটা কেটে যেতে পারত। সামনে একটা ক্রুজ আসছিল আর মাঝখান দিয়ে আমার নৌকাটির যাওয়ার কথা। আমি শরীর ছিন্নভিন্ন হতে যেতে পারত কিন্তু সেই যাত্রায় ভগবানের আশীর্বাদে বেঁচে গিয়েছি।”
অক্ষয় আরও জানান, ‘খিলাড়ি ৭৮৬’ ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁকে হট এয়ার বেলুনে লাফ দিতে হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর কেরিয়ারে এমন বহু মুহূর্ত এসেছে যেখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু প্রতিবারই অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
এই ধরনের বিপজ্জনক কাজের পরও তাঁর পরিবার বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে। অভিনেতা বলেন, “আমার স্ত্রী টুইঙ্কল এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। ওঁর বিশ্বাস আমি সুস্থ শরীরেই বাড়ি ফিরে আসব।”












