টালিগঞ্জের বিশ্বাস পরিবারে ভাঙন: বিচ্ছেদের পথে জুঁই ও স্বরূপ
রাজ্যের রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে জোর গুঞ্জন। অবশেষে দীর্ঘদিনের জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করলেন কলকাতা পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার তথা ১০ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান জুঁই বিশ্বাস। তৃণমূল নেতা এবং টলিউডের কলাকুশলী ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটতে চলেছে। উল্লেখ্য, জুঁই বিশ্বাস রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভ্রাতৃবধূ।


দীর্ঘদিনের দূরত্ব, এবার আইনি পদক্ষেপ
হুট করে নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক দূরত্বের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন জুঁই বিশ্বাস। সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন:
- ২০১৯ সাল থেকে পৃথক বসবাস: ২০১৯ সাল থেকেই তাঁরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা থাকছিলেন।
- ঠিকানা বদল: ২০২০ সালের কোভিড পরিস্থিতির কারণে তখন ঠিকানা বদল না করলেও, গত বছর (২০২৫) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর জুঁই সম্পূর্ণ আলাদা একটি ঠিকানায় চলে যান।
- চলতি বছরে আইনি প্রক্রিয়া: চলতি বছরের (২০২৬) শুরুতেই তাঁরা দুজনে যৌথভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
“মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ”
একদিকে যখন রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরমহল উত্তপ্ত, ঠিক তখনই নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনলেন জুঁই। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তিনি। জুঁই বিশ্বাস জানান:
“আমাদের দুই মেয়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে আমি ওদের মেন্টাল হেলথ (মানসিক স্বাস্থ্য)-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
নীরব স্বরূপ বিশ্বাস
এই বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে অন্য পক্ষ অর্থাৎ স্বরূপ বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও কোনো উত্তর তিনি দেননি।
দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়া ও রাজনীতির অলিন্দে যে গুঞ্জন চলছিল, জুঁই বিশ্বাসের এই স্বীকারোক্তির পর তাতে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ল।












