আরজি কর কাণ্ড: এবার পানিহাটির শ্মশানে সিবিআই, নির্যাতিতার ‘তড়িঘড়ি’ দাহর অভিযোগে জোর তদন্ত

কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল সিবিআই। আদালতের নির্দেশে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। গত সোমবার আরজি কর হাসপাতালে পরিদর্শনের পর, এবার সিবিআই তদন্তকারীরা পৌঁছে গেলেন উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি শ্মশান ঘাটে। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ ও সিবিআইয়ের তৎপরতা
সম্প্রতি নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে সিবিআই তদন্তে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে পুনরায় তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট সিবিআই-কে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল:
- সিবিআই-কে আবারও ঘটনাস্থলগুলিতে যেতে হবে।
- নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে।
- পরিবারের তোলা সমস্ত দাবি, তথ্য এবং নথি নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে।
এই নির্দেশের পরেই গত সোমবার আরজি কর হাসপাতালে যান সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শনের পাশাপাশি হাসপাতালের বর্তমান আধিকারিক, চিকিৎসক এবং নির্যাতিতার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।
কেন পানিহাটির শ্মশানে গোয়েন্দারা?
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর, পানিহাটির শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। নির্যাতিতার পরিবারের মূল অভিযোগ— ঘটনার রাতে তাঁদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে মেয়ের দেহ ‘তড়িঘড়ি’ দাহ করানো হয়েছিল।
অভিযোগের তির কাদের দিকে? পরিবারের দাবি, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি এবং পানিহাটির ‘কাকু’ বলে পরিচিত সঞ্জীব মুুখোপাধ্যায়েরাই মূলত দেহ দ্রুত পুড়িয়ে ফেলার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। এই নিয়ে সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিল পরিবার। যদিও সিবিআই-এর পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অকাট্য প্রমাণ তাদের হাতে নেই। আর সেই কারণেই শ্মশান ঘাটে গিয়ে নতুন করে প্রমাণের খোঁজে নেমেছেন তদন্তকারীরা।
প্রেক্ষাপট: কলকাতা পুলিশ থেকে সিবিআই
আরজি কর কাণ্ডের পর প্রথম দিকে তদন্তের দায়িত্বে ছিল কলকাতা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে সেই ভার যায় সিবিআই-এর হাতে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যেই নিম্ন আদালত দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, এর নেপথ্যে থাকা আরও অনেক রাঘববোয়াল এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চক্রান্ত এখনও আড়ালেই রয়ে গেছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই-এর এই পুনর্তদন্তের জেরে পানিহাটি শ্মশানের ঘটনা থেকে নতুন কোনও মোড় বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।












