সরকারি অফিসে ‘গুপ্ত শয়নকক্ষ’! কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধার হতেই তোলপাড় বিধাননগর, মন্ত্রী বললেন ‘দেখাও পাপ’
কলকাতা: সরকারি কাজের জায়গায় এ কীসের রমরমা? যেখানে বসে সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার কথা, সেখানে মিলল বিলাসবহুল বিছানা, আর ড্রয়ার খুলতেই বেরিয়ে এল কন্ডোমের প্যাকেট! চারিদিকে যেন এখন একটাই ছবি— যেখানেই তল্লাশি, সেখানেই মিলছে কন্ডোম। এবার বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে হানা দিয়ে এমনই এক ‘গুপ্ত শয়নকক্ষে’র হদিস পেলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও বিজেপি কর্মীরা। দফতরের এই হাল দেখে ক্ষোভে ও লজ্জায় মন্ত্রী বলে উঠলেন, “এ সব দেখাও পাপ!”


বিলাসবহুল ঘর, ৫টি এসি ও কন্ডোমের প্যাকেট!
শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকান্তনগর এলাকায় আসন্ন পুরভোট উপলক্ষে বিজেপির একটি পথসভা ছিল। কর্মসূচি শেষে মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং দলের নেতা-কর্মীরা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওই সরকারি দফতরে যান। ভিতরে ঢুকতেই তাঁদের চোখ চড়কগাছ!
- এলাহি ব্যবস্থা: সরকারি অফিসের ভিতরেই রয়েছে পাঁচটি এসি লাগানো এক বিশাল ঘর।
- গুপ্ত শয়নকক্ষ: তার সঙ্গেই লাগোয়া আর একটি ঘর, যেখানে পাতা রয়েছে খাট ও বিছানা। আলমারি খুলতেই দেখা যায় সারি সারি সাজানো বালিশ।
- ড্রয়ারে কন্ডোম: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘরের ভেতর থাকা মহিলাদের ব্যবহার্য ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলতেই উদ্ধার হয় কন্ডোমের প্যাকেট।
সরকারি দফতরের ভেতর এই ধরনের সামগ্রী মেলায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে এখন রসিকতা ও কটাক্ষের ঝড়— সরকারি দফতর নাকি আমোদপ্রমোদের আখড়া, সর্বত্রই কেন কন্ডোমের ছড়াছড়ি?
“বয়স হয়েছে, এমন জিনিস দেখাও পাপ। এ বার বুঝতে পারলাম শয়নকক্ষ কেন!” — শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী)
গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধকরণ’-এর দাবি
এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, এই ওয়ার্ড অফিসটি গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধকরণ করার পরেই সেখানে পুনরায় সরকারি কাজকর্ম শুরু হওয়া উচিত। বিজেপি কর্মীদের আঙুল মূলত ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্করের দিকে, যিনি ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরভোটের মুখে বিধাননগরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গিয়েছে। ওই দিনের কর্মসূচি থেকে মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দেন, আগামী পুর নির্বাচনে বিধাননগরের ৪১টি ওয়ার্ডেই বিজেপিকে জয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
তবে অফিসের ভেতর থেকে কন্ডোম উদ্ধার এবং বিজেপির এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস বা ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।











