প্রস্তুতির অভাবে অনুজ্জ্বল ডার্বি: ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে জয় দিয়ে মরসুম শুরু মোহনবাগানের

কলকাতা: মরসুমের প্রথম ডার্বিতে জয় দিয়ে খাতা খুলল মোহনবাগান। ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ম্যাচের ৫২ মিনিটে মনবীরের পাস থেকে জয়সূচক গোলটি করেন আব্দুল সামাদ। তবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই জয়-পরাজয়ে শেষ হলেও ম্যাচের মান কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের মন ভরাতে পারেনি।

প্রাক-মরসুম অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় দুই দলের খেলাই ছিল প্রস্তুতির অভাবে স্পষ্ট। অনুশীলনের জন্য হাতে মাত্র কয়েক দিন সময় পাওয়ায় কোচেদের পক্ষেও ফুটবলারদের ঠিকমতো বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। ইস্টবেঙ্গলের নতুন কোচ আন্তোনিও হাবাস এবং মোহনবাগানের নতুন কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস—উভয়কেই পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে দল নামাতে হয়েছে।
ম্যাচের মূল দিকগুলি:
- প্রথমার্ধের আধিপত্য: প্রথমার্ধে মোহনবাগান চার-পাঁচটি গোল করার সুযোগ তৈরি করলেও ইস্টবেঙ্গলকে বেশ দিশাহীন দেখায়।
- লাল-হলুদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা: দ্বিতীয়ার্ধে মহম্মদ রশিদ মাঠে নামার পর ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণে কিছুটা গতি আসে। ম্যাচের শেষ ১৫-২০ মিনিটে সমতা ফেরানোর একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন রশিদ নিজেই।
- বিদেশিদের বিলম্ব ও ফিটনেসের অভাব: দুই দলের ফুটবলারদের ফিটনেসের দুর্বলতা এবং একের পর এক ভুল পাস চোখে পড়েছে। প্রতিযোগিতার সূচি এবং বিদেশি ফুটবলারদের ‘এনওসি’ (NOC) সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে একদম শেষ মুহূর্তে বিদেশি ফুটবলাররা দলে যোগ দেন। ফলে প্রথম একাদশে বিদেশিদের ছাড়াই খেলতে নামেন দুই কোচ।
প্রশাসনের উদাসীনতা ও অবকাঠামোর প্রশ্ন:
এই ডার্বি আবারও ভারতীয় ফুটবলের পরিকল্পনাহীন এবং দিশাহীন অবস্থাকে সামনে এনে দাঁড় করাল। ফেডারেশনের নির্দিষ্ট ফুটবল ক্যালেন্ডারের অভাব এবং ক্লাবগুলির সঙ্গে আলোচনা না করে ডুরান্ড কাপের সূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের অসমান ও বড় ঘাসের মাঠ ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং চোটের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
সব মিলিয়ে মানুষের আবেগ উস্কে দেওয়া গেলেও, স্রেফ প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকাঠামোর অভাবে মরসুমের প্রথম কলকাতা ডার্বি ভালো ফুটবলের মানের নিরিখে অনেকটাই পিছিয়ে রইল।










