প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি প্রদর্শনের অভিযোগ: অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বিজেপির, তোলপাড় রাজনীতি


বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: নিট (NEET) কেলেঙ্কারি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় আয়োজিত ছাত্র মিছিলের জেরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। মিছিলে বিশৃঙ্খলা ও সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগের মাঝেই এবার নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুরুচিকর ও বিকৃত ছবি প্রকাশ্যে প্রদর্শন করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানা ও বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেত্রী তথা দলের মুখপাত্র কেয়া ঘোষ।
শ্রীলেখার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ তুলে অবিলম্ব গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির অভিযোগ ও আইনি ধারা
বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের অভিযোগ, আন্দোলনের নামে শ্রীলেখা মিত্র ‘টুকরে গ্যাং’-এর সঙ্গে শামিল হয়ে অশালীনতা ছড়াচ্ছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করে তা প্রদর্শনের মাধ্যমে জনরোষ ও অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে:
- ধারা ৩৫২: ইচ্ছাকৃতভাবে কারও ভাবমূর্তি বা মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিসন্ধি, যা দেশের শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।
- ধারা ৩৫৩: প্রকাশ্যে উসকানিমূলক তথ্য বা আচরণের মাধ্যমে জনরোষ সৃষ্টি করা।
- ধারা ১৯ (১)(২): সংবিধান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দিলেও তার শর্ত লঙ্ঘন।
- ধারা ৩৫৬: ইচ্ছাকৃত মানহানি ও সম্মানহানির অপরাধ।
বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে পুলিশ পদক্ষেপ না করলে এবং অভিনেত্রীকে গ্রেফতার না করা হলে তারা আরও বৃহৎ আন্দোলনে নামবে।
পালটা সাফাই ও প্রতিক্রিয়া শ্রীলেখা মিত্রের
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল তৈরি হতেই মুখ খুলেছেন শ্রীলেখা মিত্র। গ্রেফতারির ভয়কে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন:
“আমি যতই বিজেপি বা মোদি-বিরোধী হই না কেন, আমাকে যদি কেউ দেশদ্রোহী আখ্যা দেন তা যেমন হাস্যকর, তেমনই আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ওরকম একটি ছবি হাতে তুলে ধরেছি ভাবাটাও ভুল। ওই মুহূর্তে আমার চোখে রোদচশমা ছিল এবং পুলিশের লাঠিচার্জের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাড়াহুড়োতে পোস্টারটি তুলেছিলাম। ঘুরিয়ে দেখার সময় ছিল না সেখানে কেমন ছবি রয়েছে। পোস্টারটির আকার ছোট হওয়ায় বিকৃত ছবি থাকার বিষয়টিও আমি বুঝতে পারিনি।”
এর পাশাপাশি পালটা সুর চড়িয়ে তিনি রাজ্যের শাসকদলকেও বিধেছেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন।
ধর্মতলার ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই পোস্টার বিতর্ক আপাতত কেবল সামাজিক মাধ্যম বা রাজনীতির ময়দানেই সীমাবদ্ধ নেই, পৌঁছাল আইনি দোরগোড়াতেও। এখন দেখার, পুলিশ প্রশাসন এই এফআইআর-এর ভিত্তিতে কী আইনি পদক্ষেপ নেয়।












