প্রথম গোলেই চোখে জল! কেন কাঁদলেন মেসি? নিজেই জানালেন সেই আবেগঘন কারণ

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্তিনার জার্সিতে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আলজিরিয়া। আর সেই বিশেষ ম্যাচেই দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ গোলের বড় জয় এনে দিলেন লিওনেল মেসি। একই সাথে ছুঁয়ে ফেললেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডও। কিন্তু এত সব আনন্দের মাঝেও ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে অন্য একটি দৃশ্য—প্রথম গোলটি করার পরেই আর্জেন্তাইন অধিনায়কের চোখে জল!

সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সেই কান্নার দৃশ্য। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি নিজের শেষ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়ে আবেগে ভেসে গেলেন ফুটবল জাদুকর?
‘কান্নার পেছনে ফুটবল নেই, কারণটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত’
ম্যাচ শেষে নিজের এই আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে নিজেই মুখ খুলেছেন মেসি। তবে এর পেছনে কোনো ফুটবলীয় কারণ ছিল না। মেসি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগের দিনগুলো তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না।
মেসি বলেন:
“এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েক দিন আমি খুব কঠিন সময় পার করেছি। কিছু জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং খেলাধুলার বাইরের বিষয়।”
ব্যক্তিগত জীবনের সেই কঠিন সমস্যার কথা বিস্তারিত না জানালেও, খারাপ সময়ে দলের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা।
সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
কঠিন মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কীভাবে আর্জেন্তিনা দল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা উল্লেখ করে মেসি বলেন:
“আমি পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা এবং দলের সবাই আমাকে ভালো রাখতে অনেক চেষ্টা করেছে। এই কঠিন সময়ে তাঁরা সবসময় আমার পাশে ছিল।”
কেরিয়ারের সেরা অধ্যায় এবং ‘কেকের ওপর চেরি’
২০২২ সালে অধরা বিশ্বকাপ জয়ের পর, ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হয়েছে মেসির হাত ধরেই। বয়স ৩৮ হলেও মাঠে তাঁর জাদু যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা প্রথম ম্যাচেই প্রমাণিত। বর্তমান সময়টাকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় উল্লেখ করে মেসি বলেন:
“ফুটবল আমাকে জীবনে অসাধারণ অনেক কিছু দিয়েছে। এত কিছু পাওয়ার পর এখন যা অনুভব করছি, সেটাই যেন কেকের ওপর রাখা শেষ চেরি (Cherry on the cake)। এই মুহূর্তগুলো আমি ভীষণ উপভোগ করছি।”
ভাষা হারিয়েছেন কোচ স্কালোনি
মেসির এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর আর্জেন্তাইন কোচ লিওনেল স্কালোনিও প্রশংসায় পঞ্চমুখ। শিষ্যের প্রশংসায় যেন ভাষাই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন:
“লিওকে নিয়ে আর কী বলব? সত্যি বলতে আমার বলার মতো শব্দ নেই। সে অবিশ্বাস্য!”
রেকর্ড বুক আর আবেগ—দুইয়ে মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই মেসি বুঝিয়ে দিলেন, এবারও তিনি বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।










