বৃহস্পতিবার সকালে এক মর্মান্তিক ও আকস্মিক খবরে শোকস্তব্ধ গোটা দেশের চলচ্চিত্র জগৎ। আরব সাগরের তীরে নেমে এসেছে প্রগাঢ় শোকের ছায়া। পাঁচ দশকের বর্ণময় অভিনয় জীবনের সুদীর্ঘ পথচলা থামিয়ে দিয়ে চিরবিদায় নিলেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রতিভাবান ও শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর।


ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাসভবনে সম্পূর্ণ একা ছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। বুধবার মধ্যরাতের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়।
- শেষ মেসেজ: রাত আড়াইটে নাগাদ তীব্র অস্বস্তির কথা জানিয়ে এক বন্ধুকে টেক্সট মেসেজ করেছিলেন নানা পাটেকর। কিন্তু সেই সময় বন্ধুটি ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজটি দেখতে পাননি।
- ঘটনা আবিষ্কার: এরপর ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ মেসেজটি চোখে পড়তেই দেরি না করে নানার ডোনা পাওলার বাড়িতে ছুটে যান ওই বন্ধু ও কেয়ারটেকার। সেখানে গিয়ে ঘরের মেঝেতে অভিনেতাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।
চিকিৎসকদের ব্যর্থ লড়াই ও মৃত্যুর কারণ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত মেডিক্যাল টিমকে সঙ্গে নিয়েই অভিনেতার বন্ধু তাঁকে নিয়ে ছোটেন মণিপাল হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে—
- সিপিআর (CPR) চেষ্টা: অ্যাম্বুল্যান্সে এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর একটানা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR) বা কৃত্রিমভাবে হৃদস্পন্দন ফেরানোর চেষ্টা চালান চিকিৎসকরা। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
- মৃত্যুর কারণ: চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, গভীর রাতে হৃদরোগে (Cardiac Arrest) আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে রাত আড়াইটে নাগাদ অসুস্থ হওয়ার পর প্রায় দু’ঘণ্টা চিকিৎসাগত সাহায্য না মেলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। এই ঘটনায় একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অভিনেতার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
অপূরণীয় ক্ষতি
‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’ কিংবা কমেডিতে ভরপুর ‘ওয়েলকাম’—সব জায়গাতেই তাঁর দাপুটে অভিনয় দর্শকের হৃদয়ে চিরকালের জন্য জায়গা করে নিয়েছে। ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত এই মানুষটির হঠাৎ চলে যাওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিনোদন জগতের বহু তারকা।












