২,৭০০ টাকার ক্যানসারের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ২৭ হাজারে!এই বিপুল লাভ কার পকেটে যাচ্ছে? প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের জবাব চাইল শীর্ষ আদালত

নিজস্ব সংবাদদাতা: মারণ রোগ ক্যানসার বাস্তবেই এক সর্বনাশা ‘রাজরোগ’। এর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হন সাধারণ মানুষ। সে কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটে একাধিকবার ক্যানসারের ওষুধের দাম কমানো হলেও, বাস্তবে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। ওষুধের খুচরো বিক্রির লভ্যংশ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট।

প্রস্তুতকারক সংস্থা ক্যানসারের একটি ওষুধ খুচরো বিক্রেতাকে যে দামে (পিটিআর) সরবরাহ করছে, ক্রেতার জন্য মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (এমআরপি) তার তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি! এই অস্বাভাবিক ফারাক কেন? এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্ন
ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক প্রেসক্রিপশন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি পি. বি. বরাধাল্লে (অথবা বেঞ্চের বিচারপতিদ্বয়)-এর বেঞ্চে। শুনানির সময় আদালতের সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— খুচরো বিক্রেতারা যে ক্যানসারের ওষুধ ২,৭০০ টাকায় কিনছেন, তার সর্বাধিক খুচরো মূল্য বা এমআরপি ধার্য করা হচ্ছে প্রায় ২৭,০০০ টাকা পর্যন্ত!
এই ঘটনাকে সরাসরি ‘ধ্বংসযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন:
- এই দশ গুণ মূল্যবৃদ্ধি কেন?
- এই বিপুল পরিমাণ টাকা আসলে কোথায় যায়?
- এতে আখেরে লাভ কার হচ্ছে?
সংবেদনশীল স্বাস্থ্যক্ষেত্র ও ব্যবসায়িক মুনাফা
পণ্যসামগ্রীর মধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রটি অন্যতম সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা। উপায়হীন রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরা জীবন বাঁচাতে যেকোনো মূল্যে ওষুধ কিনতে বাধ্য হন। মানুষের এই চরম অসহায়তার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ফায়দা লুটছেন বলে অভিযোগ।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কর্পোরেট হাসপাতালগুলি প্রায়শই রোগীদের তাদের নিজস্ব ইন-হাউস ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়, আয়ুষ্মান ভারত বা অন্যান্য জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা হলেও এই বর্ধিত ওষুধের খরচ শেষ পর্যন্ত ঘুরেফিরে করদাতাদেরই বহন করতে হয়। এই পরিস্থিতির দ্রুত বদল ঘটানো প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।
কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া
বিচারপতিদের এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেন মামলার যুক্ত কেন্দ্রের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে জবাব দেওয়া হবে।











