নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনে রেকর্ড ৮০% ভোট, রিগিংয়ের অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের দাবি বিরোধীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ দেড় দশকের সহিংসতার ট্র্যাডিশন ভেঙে উৎসবের আমেজে সম্পন্ন হলো বাংলার দুই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই কেন্দ্রেই ভোটদানের হার ছুঁয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার চাদরে মোড়া এই উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, ভোটপর্ব শেষ হতেই তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। একদিকে বিরোধীরা ব্যাপক ভোট লুট ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে, অন্যদিকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শাসকদল বিজেপি।

রেজিনগরে তুলকালাম ও হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তারি
বিকেল ৫টা পর্যন্ত রেজিনগরে ভোট পড়েছে ৭৮.৪২ শতাংশ। তবে সকাল থেকেই ভোটলুটের অভিযোগ তুলে সরব হন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর। পুলিশ ও শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করার জেরে শেষমেশ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নির্বাচন চলাকালীন বুথ থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলের একাংশ। কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে রেজিনগর থানায় বিক্ষোভও দেখানো হয়। পরে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব পুনর্নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন। অন্যদিকে, ভোট লুটের অভিযোগ তুলে আগামী ৯ অক্টোবর গণনা কেন্দ্রে না যাওয়ার ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন-পুত্র তথা রেজিনগর কেন্দ্রের প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ।
নন্দীগ্রামে রেকর্ড মার্জিনের আশায় বিজেপি
নন্দীগ্রামে ভোটদানের হারও প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এবারের ফলাফলে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে যাবে। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয়ের ব্যবধান আগের সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে পিছিয়ে নেই নন্দীগ্রামের বিরোধীরাও। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান থেকে শুরু করে বাম-আইএসএফ জোটের প্রার্থীরাও একাধিক বুথে এজেন্টদের বসতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। নন্দীগ্রামেও পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে বিরোধীরা।
শাসকদলের প্রতিক্রিয়া
বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রেজিনগরে সংখ্যালঘুরাও বুঝতে পেরেছেন মানুষ উন্নয়ন ও কারখানা চান। মানুষ সঠিক রায় দেবেন। নন্দীগ্রামে গতবারের মার্জিন এবার পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং রেজিনগরেও বিজেপি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ব্যবধানে জয়লাভ করবে।”
আগামী ৯ অক্টোবর ভোটগণনা। এখন দেখার বিষয়, এই হাই-প্রোফাইল উপনির্বাচনের শেষ হাসি কার কপালে জোটে।












