আলোকরশ্মিতে অসুরবধ! চোখ ধাঁধানো লাইট শোয়ে দুর্গতিনাশিনীকে দেখল মুগ্ধ তিলোত্তমা
কলকাতা: বিজেপি সরকারের তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শাসনামলে বঙ্গে এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার মেগা ইভেন্ট সেই প্রত্যাশাকে শতভাগ পূরণ করল। চোখ ধাঁধানো আলোর খেলায় দুর্গতিনাশিনী দুর্গাকে দেখে মুগ্ধ হলো গোটা তিলোত্তমা। সুর, তাল আর ছন্দের জাদুতে আসর মাতালেন একের পর এক শিল্পীরা। নাচে-গানে আলোর রোশনাইয়ে মহালয়ার আনন্দে মেতে উঠল শহর কলকাতা।


এবারের পুজো প্রতিবারের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। কারণ, মহালয়ায় এক বর্ণাঢ্য মেগা ইভেন্টের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। শনিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে ঢাকের বোল, আদিবাসী নাচ ও লগ্নজিতা চক্রবর্তীর জাদুকরী গানের মাধ্যমে শুরু হয় জমকালো অনুষ্ঠান। ইডেনের এই মহাযজ্ঞে উপস্থিত ছিলেন জুন মালিয়া, স্বপন দাশগুপ্ত, সুখেন্দুশেখর রায়-সহ বিশিষ্টজনেরা। লাল শাড়িতে সেজে মঞ্চের সৌন্দর্য বাড়িয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী ইমন চক্রবর্তী।
এদিকে রেড রোড থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে ইডেনে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ বহু তারকা। মঞ্চের আলো ছড়িয়ে উপস্থিত ছিলেন তসলিমা নাসরিনও। সব মিলিয়ে মহালয়ার উৎসবে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছায় তিলোত্তমা।
সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ছিল তাক লাগানো লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। যেখানে আলোর জাদুতে রেডিওর মহালয়া সম্প্রচার থেকে শুরু করে দেবীর আগমন এবং দশমীর সিঁদুর খেলা পর্যন্ত পুরো যাত্রাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। এরপরেই হাজার হাজার ড্রোনের এক অভিনব ড্রোন শো আকাশ আলোকিত করে তোলে। ড্রোনের নিখুঁত ফর্মেশনে রাতের আকাশে ফুটে ওঠে মা দুর্গতিনাশিনীর রূপ এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পদ্মফুল’।
সাংস্কৃতিক পর্বে ইডেনের মঞ্চ মাতান শান, লগ্নজিতা, কৌশিকী চক্রবর্তী ও অন্তরা মিত্র। সুরের মূর্ছনায় মন্ত্রমুগ্ধ করেন শান্তনু মৈত্র ও তাঁর দল। পাশাপাশি যন্ত্রসংগীতে জাদুকরী পরিবেশনা উপহার দেন দেবর্ষি ভট্টাচার্য ও অন্যান্য শিল্পীরা।
অন্যদিকে, এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্ট্র্যান্ড রোড এবং সেন্ট জর্জেস গেট রোডের রাজা উডমন্ট স্ট্রিট ও হেস্টিংস ক্রসিংয়ের মধ্যে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত কঠোরভাবে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়।












