ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই আলোচনা— তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল বনাম ফরাসি মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপের দ্বৈরথ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই স্পেনের এই ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালক সটান হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ফ্রান্সকে তিনি দেখে নেবেন! আর এই হুমকির পেছনে কেবল মুখের কথা নয়, রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতের এক অকাট্য পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবল হোক কিংবা ক্লাব ফুটবল— গত দুই বছর ধরে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক বা ‘গলগ্রহ’ হয়ে উঠেছেন বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। নকআউট পর্ব এলেই যেন ইয়ামালের সামনে চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলেন এমবাপে!
ইতিহাস বলছে, বিগত দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট এবং একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে গত দুই বছর ধরে কার্যত নাকানিচোবানি খাইয়েছে স্পেন। ইউরো কাপ থেকে শুরু করে নেশনস লিগ— স্প্যানিশ আর্মাডার কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে ফরাসি ব্রিগেড। আর সেই দাপটের নেপথ্য নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং লামিন ইয়ামাল।

[এখানে দুই তারকার দ্বৈরথের একটি কোলাজ ছবি বসবে]
ছবির ক্যাপশন: মাঠে মুখোমুখি স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
নকআউটের সেই ‘অভিশপ্ত’ পাঁচ ম্যাচ
দুই মহাতারকার দ্বৈরথের পরিসংখ্যান বলছে, নকআউটের মঞ্চে ইয়ামালের জয় আর এমবাপের হার— এটাই যেন এখন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা পাঁচ নকআউট ম্যাচে ছবিটা একই রয়েছে:

- ২০২৪ ইউরো সেমিফাইনাল: দুই দলই ছিল ট্রফির দাবিদার। ম্যাচের শুরুতে ফ্রান্স এগিয়ে গেলেও, দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান ইয়ামাল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে শেষ হাসি হাসে স্পেনই।
- ২০২৫ নেশনস লিগ সেমিফাইনাল: গোলবন্যার সেই ম্যাচে মোট ৯টি গোল হয়েছিল। প্রথমার্ধেই স্পেন ২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, বিরতির ঠিক পরেই ইয়ামাল করেন জোড়া গোল। ফ্রান্স বিরতির পর ৪টি গোল দিয়ে কামব্যাক করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্পেন ম্যাচ জেতে ৫-৪ ব্যবধানে।
- ২০২৫ সুপার কোপা ফাইনাল: ক্লাবের জার্সিতেও রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপেকে টেক্কা দেন বার্সার ইয়ামাল। এমবাপের শট থেকে রিয়াল প্রথম গোল পেলেও, ইয়ামাল গোল শোধ করেন এবং বার্সেলোনা ৫-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে রিয়ালকে।
- ২০২৫ কোপা দেল রে: অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে ছিটকে দেয় ইয়ামালের বার্সা।
- চলতি বছরের সুপার কোপা ফাইনাল: এখানেও ভাগ্য বদলায়নি এমবাপের। বার্সেলোনা আবারও ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদকে।
এবার কি ভাঙবে রেকর্ড, নাকি হবে ‘ডবল হ্যাটট্রিক’?
টানা পাঁচ নকআউট ম্যাচে হারের পর ফরাসি শিবিরের সামনে এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার অবস্থা। এবার যদি ইয়ামাল আবার শেষ হাসি হাসেন, তবে নকআউটে এমবাপের বিপক্ষে জয়ের ‘ডবল হ্যাটট্রিক’ (টানা ৬ ম্যাচ জয়) পূর্ণ করবেন এই স্প্যানিশ তরুণ।
তবে ফরাসি ব্রিগেডকে আশার আলো দেখাচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাস। ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও ফ্রান্স। ২০০৬ সালের সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল স্পেনকে।
নকআউটের এই যন্ত্রণাদায়ক পরিসংখ্যান কি এবার পালটাতে পারবেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে? নাকি আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে মাঠ ছাড়বেন স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল? উত্তর দেবে মাঠের লড়াই।










