ট্রফি-মেডেলের পাশাপাশি এবার ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’, ফুটবল বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ফিফার!


খেলাধুলা ডেস্ক: বিশ্বকাপ জয়ের পর সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা কিংবা গলায় সোনার মেডেল ঝুলিয়ে উদযাপনের চিরচেনা ছবি এবার বদলে যাচ্ছে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যোগ হচ্ছে এক নতুন রোমাঞ্চ ও ঐতিহাসিক স্মারক। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কোচরা এবার ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি পাবেন বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ বা চ্যাম্পিয়ন আংটি।
কেন এই বিশেষ আংটির সিদ্ধান্ত?
উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া সংস্কৃতিতে চ্যাম্পিয়নদের আংটি দেওয়ার এই রীতির প্রচলন দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনবিএ (NBA) ও এনএফএল (NFL)-এর মতো জনপ্রিয় লিগগুলোতে চ্যাম্পিয়ন দলকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
যেহেতু এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে, তাই আয়োজক দেশগুলোর এই সমৃদ্ধ ক্রীড়া ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে ও ফুটবল বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই ফিফা এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কীভাবে দেওয়া হবে এই আংটি?
- প্রতীকী রিং: ১৯ জুলাইয়ের মেগা ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেই চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ ও খেলোয়াড়দের হাতে প্রথমে একটি প্রতীকী ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ তুলে দেওয়া হবে।
- কাস্টমাইজড ডিজাইন: পরবর্তীতে খেলোয়াড় ও কোচদের আঙুলের নিখুঁত মাপ নিয়ে প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে স্থায়ী আংটি তৈরি করা হবে।
- ডিজাইন ও সিরিয়াল নম্বর: প্রতিটি আংটির এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপের লোগো বা নকশা, অন্য পাশে থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয়, প্রতীক এবং নিজস্ব রং। খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি বিশেষ আংটিগুলোতে আলাদা সিরিয়াল নম্বরও খোদাই করা থাকবে।
মোট ২,০২৬টি বিশেষ আংটি
ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, এই বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৬ সালের সাথে মিল রেখে মোট ২,০২৬টি বিশেষ আংটি তৈরি করা হবে।
- ৩০টি রিং: সংরক্ষিত থাকবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য।
- ১,৯৯৬টি রিং: সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্মারক (Merchandise) হিসাবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাজারে উন্মুক্ত করা হবে।
ইতিহাসের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা ও স্পেন
১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে এবং স্পেনের ঝুলিতে রয়েছে একটি বিশ্বকাপ শিরোপা। তবে আগামী রবিবারের ফাইনালে যে দলই ট্রফি জিতুক না কেন, তারাই হবে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দল যারা এই গৌরবময় ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ নিজেদের আঙুলে জড়ানোর সুযোগ পাবে।









