‘৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে ডাকতে হবে’! পুলিশের তলবে হাজিরা না দিয়ে ইমেল অভিষেকের

কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডে নোটিস পাওয়ার পরেও সোমবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবারই তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে নোটিস দিয়ে এসেছিল পুলিশ। কিন্তু এত কম সময়ের নোটিসে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে ইমেল মারফত জানিয়ে দিয়েছেন সাংসদ। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে নতুন করে নোটিস পাঠানোর অনুরোধও করেছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ২৭ অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দপ্তরের সামনে একটি বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে হুলস্থূল কাণ্ড বেঁধেছিল। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার কর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বিলবোর্ড সরাতে গেলে বাধা দেন তৃণমূল কর্মীরা। এই কেন্দ্র করেই পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে সাংসদের অনুগামীদের বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। ওই ঘটনার জেরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি পৃথক এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এই মামলাগুলির তদন্তের স্বার্থেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারীরা।
পুলিশের নোটিস ও রবিবারের তৎপরতা
এর আগে গত বুধবার শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ নোটিস নিয়ে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গেলেও, তিনি সে সময় দিল্লিতে থাকায় এবং বাড়িতে কেউ না থাকায় নোটিস না দিয়েই ফিরে আসতে হয়েছিল। এরপর শনিবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক। ঠিক তার পরের দিন, অর্থাৎ রবিবার সকালে ফের তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস পৌঁছে দেয় পুলিশ। নোটিসে সোমবার সকালে তাঁকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইমেলে যা জানালেন অভিষেক
সোমবার সকালে হাজিরা না দিয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইমেল পাঠিয়ে অভিষেক জানান, এই ধরনের একতরফা ও স্বল্প সময়ের নোটিস তাঁর পক্ষে মানা সম্ভব নয়। ইমেলে তিনি লিখেছেন—
‘‘আমি সংসদের সদস্য এবং আমার কিছু পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকে। ১১ অক্টোবর আমাকে একটা নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং পরের দিনই হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। এত কম সময়ের নোটিসে আমার পক্ষে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে এ ভাবে হাজিরার নির্দেশ একতরফা, স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক।’’
তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে ইমেলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অভিষেক। তবে তাঁর দাবি, হাজিরা দেওয়ার আগে যেন কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা সময় হাতে রেখে নতুন করে নোটিস পাঠানো হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে এখন এই জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।












