বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

যাদবপুরে মধ্যরাতের তাণ্ডবে কাঠগড়ায় কর্তৃপক্ষ! ‘গায়েব’ প্রশাসন, কড়া তদন্তের দাবিতে সরব সব পক্ষ

Published on: August 20, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যরাতের হিংসা ও তাণ্ডবের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস পরিস্থিতি। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সমস্ত ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষক সমাজ। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটির দাবি জানিয়েছে সব পক্ষ।

ঘটনা ও গাফিলতির অভিযোগ

  • যোগাযোগে ব্যর্থতা: বুধবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চলার সময় উপাচার্য কিংবা রেজিস্ট্রার—কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, ধৃত ও আক্রান্তদের সহায়তায় ১০০ ডায়ালে ফোন আসার পর লালবাজারের তরফে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
  • বহিরাগত ঢোকার প্রশ্ন: ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবেষ্টনী টপকে রাতদুপুরে কীভাবে বাইকে করে শয়ে শয়ে বহিরাগত তাণ্ডব চালাল, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

  • শিক্ষক সংগঠনের ক্ষোভ: জুটা (JUTA)-র সাধারণ সম্পাদক রাজ্যেশ্বর সিংহ স্বীকার করেছেন যে কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। অন্যদিকে আবুটা (ABUTA) এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনের নীতিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণকে দায়ী করেছে।
  • প্রাক্তন উপাচার্যের কটাক্ষ: প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ রাত ১২টার পর ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন এবং বিদ্যমান প্রশাসনকে “অপাদার্থ” বলে তীব্র আক্রমণ জানান।

বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও অবস্থান

  • বামপন্থী ছাত্র সংগঠন: অভিযুক্ত বহিরাগতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে উপাচার্যের দেখা না পেয়ে সহ-উপাচার্যকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি।
  • এবিভিপি (ABVP): অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সহ-উপাচার্যকে স্মারকলিপি জমা দিয়ে স্পষ্ট জানায়, তাণ্ডবে যুক্ত বহিরাগতরা তাদের সদস্য নয়। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুলিশি তদন্ত দাবি করেছে তারা।
  • পুলিশ ফাঁড়ি বিতর্ক: ২০২৫-এর মার্চ মাসে ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর যে প্রস্তাব উঠেছিল, তা সর্বসম্মতিক্রমে খারিজ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক সংগঠনগুলি এখনও মনে করে যে পুলিশ ফাঁড়ি বসিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

কর্তৃপক্ষের সাফাই

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, অভ্যন্তরীণ গোলমাল সামলানোর ক্ষমতা নিরাপত্তাকর্মীদের থাকলেও, বাইরে থেকে আসা সংগঠিত হিংসা আটকানোর মতো পরিকাঠামো তাঁদের নেই। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে বহিরাগতদের চিহ্নিত করতে ও কড়া ব্যবস্থা নিতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।

Join Telegram

Join Now