খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে রাজ্যজুড়ে কড়া পদক্ষেপ: বহু নামজাদা রেস্তরাঁ ও দোকানে বিক্রি বন্ধ
রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষার অভিযানে বড়সড় অনিয়ম সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণে দু’দিনে ১৭৩০টি ফুড সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫২৫টি জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষার গলদ মিলেছে। অনিয়মের শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার। অভিযানে ১১টি দোকানের বিক্রি বন্ধ, ৫টির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৩টি দোকান সিল করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযান ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মূল তথ্য

-
অভিযানের পরিধি: প্রথম দিনে ৯০৬টি ও দ্বিতীয় দিনে ৮২৪টি কেন্দ্রে তল্লাশি। ৯০১টি খাবারের নমুনা সংগৃহীত।
-
অনিয়মের চিত্র: ডায়মন্ড হারবার (১৫৩), উত্তর ২৪ পরগনা (১২৮), পূর্ব বর্ধমান (১২৯) এবং কলকাতা (৯৬)-সহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে অসচ্ছল প্রতিষ্ঠান।
-
কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের বড় নাম:
-
রং দে বসন্তী (মধ্যমগ্রাম): বাসি মাংস, ছত্রাকযুক্ত লঙ্কার গুঁড়ো ও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ব্যবহারের দায়ে লাইসেন্স সাসপেন্ড।
-
অ্যাবসলিউট বারবিকিউ নেশন (সল্টলেক RDB মল) ও বারবিকিউ নেশন (সোদপুর): অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পোকা ও বাসি খাবারের জন্য পদক্ষেপ।
-
কাঠি রোল (নবদিগন্ত, সেক্টর ফাইভ): ফ্রিজে পচা মাংস-মাছ রাখা থাকায় বিক্রি বন্ধ।
-
চৌরাসিয়া চাট্স (সল্টলেক): নিষিদ্ধ রাসায়নিক রঙের (মেটানিল ইয়েলো) উপস্থিতির কারণে লাইসেন্স স্থগিত।
-
-
অন্যান্য জেলায় পদক্ষেপ: মালদহের ‘জ়াইকা’ ও ‘শ্রীকৃষ্ণ সুইট শপ’ বন্ধ। ইংরেজবাজারের ‘কলকাতা আর্সালান বিরিয়ানি’-তে অস্বাস্থ্যকর মাংস পেয়ে বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। একাধিক প্যাকেজড পানীয় জলের কারখানা ও বেকারিও বন্ধের মুখে।
-
হুগলির খবর: চুঁচুড়ায় স্থানীয় এক নেত্রীর রেস্তরাঁ থেকে বাসি মাংস ও মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয় উদ্ধার এবং উত্তরপাড়ায় মিষ্টির পাত্রে মরা পোকা মেলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিষাক্ত কেমিক্যাল ও সচেতনতা রান্নায় শিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রং ‘মেটানিল ইয়েলো’ মেশানো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আধিকারিকেরা। রাজ্যজুড়ে ৩০টি মোবাইল ফুড ল্যাব এবং জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (FSSAI) নতুন নিয়মের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই সচেতন করার কাজ চলছে।
অন্যান্য সিদ্ধান্ত (ব্লাড ব্যাঙ্ক) রাজ্যের ৭১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে রক্তের ছাড়পত্র দেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় ‘হেল্থ পয়েন্ট’ ও ‘লাইফকেয়ার’-কে বাদ রাখা হয়েছে। রক্তদানের নিয়ম ঠিক রাখতে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়ুয়াদের জন্য রাজ্য সরকার নতুন মোবাইল অ্যাপ আনছে।












