বিশেষ প্রতিনিধি: বিখ্যাত মিসৌরি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার টিম হোটেল। জুলাইয়ের মনোরম আবহাওয়ায় নদীর পার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যেসব ফুটবল সমর্থকের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, তাঁদের কথায় কিন্তু আগামী ম্যাচের প্রতিপক্ষ সুইৎজ়ারল্যান্ড শব্দটা খুব একটা শোনা যাচ্ছে না। নীল-সাদা ভক্তদের আড্ডায়, চায়ের কাপে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম—মিশর!


রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলের সেই রুদ্ধশ্বাস জয় এবং ম্যাচজুড়ে তৈরি হওয়া নানা বিতর্কই এখন ফুটবল বিশ্বের হট টপিক।
মিশরের গোল বাতিল ও ‘ফিফা সুবিধা’ বিতর্ক
মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল মহলে নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। ম্যাচের একপর্যায়ে মিশরের মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। কাতার বিশ্বকাপের মতো এই আসরেও ফিফা আর্জেন্টিনাকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন সমালোচকরা।
তবে এই কঠিন সময়ে লিওনেল মেসিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক মারিও কেম্পেস। সমালোচকদের চড়া সুরে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন:
“পরাজিতরা সবসময়ই কাঁদে। আর যদি কেউ মনে করে বিশ্বকাপ কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তাহলে সে খুবই বোকা। সবার কথার উত্তর দিতে গেলে পাগল হয়ে যেতে হবে।”
খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসিও অবশ্য এসব বিতর্ককে গায়ে মাখছেন না। তাঁর মতে, ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে, সেটাই এই বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য ও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।
সুইসদের মুখোমুখি হওয়ার আগে রক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা
মিশরের বাধা পার করলেও স্কালোনি ব্রিগেডের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দলের নড়বড়ে রক্ষণভাগ। নকআউট পর্বের ম্যাচে ২ গোল হজম করা এবং কেপ ভার্দে ও মিশরের মতো দলগুলোর কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে রক্ষণ ভেঙে পড়া কোনো ভালো লক্ষণ নয়।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইৎজ়ারল্যান্ড, যারা টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে পা রেখেছে। সুইসদের ডিফেন্স ভাঙা যেমন কঠিন, তেমনি তাদের নিখুঁত আক্রমণ সামলানো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে নামার আগে তাই রক্ষণভাগকে নিচ্ছিদ্র করতে বাড়তি ঘাম ঝরাতে হচ্ছে আলবিসেলেস্তোদের।
মিসৌরি নদীর শান্ত হাওয়াকে সাক্ষী রেখে নীল-সাদা সমর্থকরা এখন একটাই প্রার্থনা করছেন—রক্ষণভাগের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে লিওনেল মেসির জাদুকরী ফর্ম যেন কোয়ার্টার ফাইনালেও আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেয়।










