বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

২১ জুলাইয়ের মেগা ইভেন্ট নিয়ে চরম বিপাকে ‘দুই’ তৃণমূল

Published on: June 30, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা নিষিদ্ধ: ২১ জুলাইয়ের মেগা ইভেন্ট নিয়ে চরম বিপাকে ‘দুই’ তৃণমূল

কলকাতা: ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ উদ্‌যাপন কি তবে অতীত হতে চলেছে? কলকাতা পুলিশের সাম্প্রতিক অনড় অবস্থানের পর এই জল্পনাই এখন তীব্র রাজনৈতিক মহলে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আর কোনো ধরনের জনসভা বা রাজনৈতিক জমায়েত করা যাবে না— এই মর্মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’— উভয় শিবিরের আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া হাউস এবং তার আশেপাশের এলাকায় বর্তমানে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র ১৬৩ ধারা (যা আগে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা হিসেবে পরিচিত ছিল) জারি থাকে। এই আইনি বিধিনিষেধের কারণে ২১ জুলাই ওই নির্দিষ্ট স্থানে কাউকে কোনো কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

কেন ২১ জুলাই এত গুরুত্বপূর্ণ?

১৯৯৩ সালের এই দিনে তৎকালীন যুব কংগ্রেস কর্মীদের ‘মহাকরণ অভিযান’ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই নির্মম ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মেগা সমাবেশ করে আসছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবির এখন আড়াআড়ি বিভক্ত। একদিকে দলের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আইনি লড়াই চলছে, অন্যদিকে শহিদ দিবসের মূল মঞ্চ ঘিরেই তৈরি হলো নতুন জটিলতা।

আইনি বিপাকে কুণাল-দোলা, তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

অনুমতি মেলার আগেই গত রবিবার কালীঘাট শিবিরের কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা ধর্মতলার ওই চত্বরে গিয়ে মঞ্চ তৈরির মাপামাপি শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশের অনুমতি ছাড়া কীভাবে তারা আগ বাড়িয়ে এই কাজ করলেন?

এর পরপরই হেয়ার স্ট্রিট থানায় কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয় এবং তাঁদের আজকের মধ্যেই থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বিকল্পের খোঁজে দুই শিবিরই:

পুলিশের এই কড়া বার্তার পর বিকল্প জায়গার খোঁজে নেমেছে দুই পক্ষই। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় কালীঘাট শিবিরের নেত্রী দোলা সেন। তিনি বলেন:

“আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। গত ৩৩ বছর ধরে আমরা এখানেই শহিদ-তর্পণ করে আসছি। এটা কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। ধর্মতলা শুধু একবেলার জন্য বন্ধ থাকে। তবে এই জায়গা বাদ দিয়ে অন্য কোথাও করা যায় কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে।”

অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান জানান, তাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে পুলিশের কাছে আবারও পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হতে পারে।

আপাতত ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় কলকাতার ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক চেনা ছবিটা এবার সম্পূর্ণ বদলে যেতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Join Telegram

Join Now