বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

শুভেন্দুর ধমকে ব্যাকফুটে হুমায়ুন? ‘স্যাটাভাঙা’ মারের ব্যাখ্যায় টানলেন নব্য বিজেপি প্রসঙ্গ

Published on: June 29, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

বিধানসভায় শুভেন্দুর কড়া বার্তা, ‘কুছ পরোয়া নেহি’ বললেও নিজের বয়ান ঘোরালেন হুমায়ুন কবীর….

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একের পর এক লাগামহীন ও বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেওয়া আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অবশেষে কিছুটা সুর নরম করলেন। সোমবার বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন তাঁর সাম্প্রতিক ‘সাম্প্রদায়িক’ ও ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সেই চরম বার্তার পরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেন হুমায়ুন। ‘স্যাটাভাঙা মার’ মারার বিতর্কিত মন্তব্যটি মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ‘নব্য বিজেপি’দের লক্ষ্য করে ছিল বলে সাফাই দিলেন তিনি।

বিধানসভায় শুভেন্দুর কড়া বার্তা

সাম্প্রতিককালে হুমায়ুন কবীরের বেশ কিছু মন্তব্যের জেরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিল ওয়াকিবহাল মহল। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। এই উত্তপ্ত আবহে সোমবার বিধানসভার ভেতরে দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় হুমায়ুনকে ‘সবক’ শেখানোর হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা সাম্প্রদায়িক উসকানি বরদাস্ত করা হবে না।

‘নব্য বিজেপিদের বলেছি’, সুর বদল হুমায়ুনের

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মনোভাবের টের পেয়েই বিধানসভার বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হুমায়ুন কবীর। সেখানে তাঁর গলায় শোনা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। নিজের আগের মন্তব্য থেকে কার্যত পিছু হটে তিনি দাবি করেন:

  • তাঁর মন্তব্য কোনোভাবেই মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য প্রশাসনের উদ্দেশ্যে ছিল না।
  • তিনি আসলে ‘নব্য বিজেপি’ নেতাদের নিশানা করে ওই ‘স্যাটাভাঙা মার’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

‘কুছ পরোয়া নেহি’, তবুও অকুতোভয় বিধায়ক

সুর নরম করলেও নিজের স্বভাবসিদ্ধ ‘অকুতোভয়’ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এই বিধায়ক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানান:

“আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হোক আর যাই হোক, কুছ পরোয়া নেহি। আমি আগাম অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করতে কোর্টে যাব না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে আইনি চাপ এবং অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপেই শেষ পর্যন্ত নিজের বিতর্কিত মন্তব্যকে ‘ঘোরানোর’ চেষ্টা করলেন মুর্শিদাবাদের এই দাপুটে নেতা। তবে তাঁর এই ড্যামেজ কন্ট্রোল শেষ পর্যন্ত কতটা কাজ দেয়, সেটাই এখন দেখার।

Join Telegram

Join Now