বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

বর্ধমান শহরের বিভিন্ন হোটেলে রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, উদাসীন প্রশাসন

Published on: June 23, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

বর্ধমান: শিক্ষা ও সংস্কৃতির শহর বর্ধমানে এবার থাবা বসিয়েছে এক শ্রেণীর অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী। শহরের তিনকোণিয়া চত্বর, গোলাপবাগ থেকে শুরু করে তালিতের আগে পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ও তার আশেপাশের একাধিক হোটেলে এখন রমরমিয়ে চলছে মধুচক্রের কারবার। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন এই অনৈতিক কাজ চলায় এলাকার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে।

বাইরে থেকে আসছে যুবতীরা, হোটেলের আড়ালে দেহব্যবসা

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রের জাল বেশ সুদূরপ্রসারী। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও মহিলাদের মোটা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে বর্ধমানের এই হোটেলগুলিতে। সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে হোটেলগুলির বাইরে সাধারণ বোর্ডিং বা লজের বোর্ড ঝোলানো থাকলেও, ভেতরে চলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ঘন্টা মেপে ঘর ভাড়া দিয়ে এবং মোটা টাকার বিনিময়ে এই সমস্ত অনৈতিক কারবার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।

তিনকোণিয়া থেকে তালিত: প্রধান কেন্দ্রস্থল

শহরের ব্যস্ততম এলাকা *তিনকোণিয়া চত্বর, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন *গোলাপবাগ এবং জাতীয় সড়কের ধারে তালিত মোড়ের মধ্যবর্তী এলাকাগুলি এখন এই চক্রের মূল সেফ জোন হয়ে উঠেছে। গোলাপবাগের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ ও সাধারণ অভিভাবকরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়—

“সন্ধ্যা নামলেই এই সমস্ত হোটেলের সামনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বাড়ির মা-বোনদের নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে। পুলিশ সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

এলাকাবাসীদের দাবি, হোটেলের এই অবৈধ কারবারের কথা স্থানীয় থানা বা প্রশাসনের অজানা নয়। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো দু-একটি ছোটখাটো অভিযান চালানো হলেও, মূল চাঁইরা বরাবরই পার পেয়ে যায়। ফলে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চেনা ছন্দে ফেরে এই ব্যবসা।
শহরের সচেতন নাগরিক মহল চাইছেন নতুন বিধায়িকা তথা মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এই সমস্ত হোটেলের লাইসেন্স বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Join Telegram

Join Now