তৃণমূলের অন্দরে মহাযুদ্ধ: ‘আসল’ দল কার? এবার নির্বাচন কমিশনের দরবারে মমতা বনাম ঋতব্রত গোষ্ঠী

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত খণ্ডবিখণ্ড ঘাসফুল শিবির। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে আগেই ‘আসল’ বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নিয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী। এবার লড়াই পৌঁছাল নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়।

নিউটাউনের হোটেলে ঋতব্রত গোষ্ঠীর পাল্টা চাল
সোমবার বিকেলে নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ অধিবেশনে বসেছিল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে মমতা বা অভিষেক—কাউকেই না রেখে সম্পূর্ণ নতুন এক জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করা হয়।
- নতুন চেয়ারপার্সন: অরূপ রায়।
- সাধারণ সম্পাদক: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চারজন।
- ঋতব্রতবাবু ঘোষণা করেছিলেন, নিয়ম মেনে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই নতুন কমিটিকে নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত করা হবে।
রাতারাতি মমতার পাল্টা চাল: নির্বাচন কমিশনে সংশোধিত তালিকা
ঋতব্রত শিবিরের দল দখলের এই চাল ভেস্তে দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতেই তিনি নিজের তৈরি সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি ও দলের অন্যান্য সাংগঠনিক স্তরের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো নতুন তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা হলেন:
- চেয়ারপার্সন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তিনি নিজেই তালিকায় সই করেছেন)।
- সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- রাজ্য সভানেত্রী: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
- যুগ্ম সম্পাদক: ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন।
- কোষাধ্যক্ষ: শুভাশিস চক্রবর্তী।
বাদ পড়লেন অরূপ বিশ্বাস: ৫ জুন কালীঘাটে তৈরি হওয়া জাতীয় কর্মসমিতিতে অরূপ বিশ্বাসের নাম রাখা হলেও, সোমবার রাতের এই সংশোধিত তালিকা থেকে তাঁকে নাটকীয়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
একই দলের দুটি আলাদা জাতীয় কর্মসমিতি নিয়ে এবার আইনি এবং সাংবিধানিক লড়াই শুরু হলো নির্বাচন কমিশনে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের পর এই লড়াইয়ের জল শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। কার হাতে থাকবে জোড়াফুলের রাশ, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।











