বিশ্বকাপের বলে চিপ বসানো! প্রতি ম্যাচের আগে দিতে হবে চার্জও, আর কী বিশেষত্ব?
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল যজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের এই মেগা টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করছে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বজুড়ে তুমুল চর্চায় রয়েছে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda)। বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘অ্যাডিডাস’ (Adidas) দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পর তৈরি করেছে এই অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি-নির্ভর স্মার্ট বল।
⚽ নামের রহস্য এবং নকশায় তিন দেশ
নতুন এই বলের নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’, যার অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’। তিন আয়োজক দেশের যৌথ আয়োজনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতেই এই নামকরণ। বলের ডিজাইনে তিনটি আলাদা রং ব্যবহার করা হয়েছে:

- 🔵 নীল: আমেরিকার প্রতীক।
- 🔴 লাল: কানাডার প্রতীক।
- 🟢 সবুজ: মেক্সিকোর প্রতীক।
🔌 ম্যাচের আগে দিতে হবে চার্জ!
‘ট্রাইওন্ডা’ বলের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম। বলের ভেতরের সেন্সর সচল রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে এটিকে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো চার্জ করতে হবে।

- ব্যাকআপ: একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে।
- ৯০ মিনিটের মূল ম্যাচ ছাড়াও অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকার চললেও চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও ভয় নেই।
- রেফারিদের নতুন দায়িত্ব: ম্যাচ পরিচালকদের এখন বলের হাওয়া পরীক্ষার পাশাপাশি বলটি যথাযথভাবে চার্জ করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
🎯 বলের ভেতরে ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর চিপ
বলটির ভেতরে বসানো হয়েছে একটি অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস এবং ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর।
- এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করতে সক্ষম।
- বলটি কখন, কোথায়, কত গতিতে যাচ্ছে বা কোনও খেলোয়াড়ের শরীরের সামান্যতম স্পর্শ লেগেছে কি না— সব তথ্য মুহূর্তের মধ্যে চলে যাবে কন্ট্রোল রুমে।
⚖️ ওজনে কি কোনও হেরফের হবে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ভেতরে চিপ ও ব্যাটারি থাকায় বলের ওজন কি বেড়ে যাবে? উত্তর হলো— একদমই না।
- সেন্সরটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম।
- বলের ভেতরে এটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে এর স্বাভাবিক ওজন, গতি বা বাউন্সে (Bounce) কোনও পরিবর্তন না আসে। ফুটবলাররা মাঠে খেলার সময় সাধারণ বলের চেয়ে কোনও আলাদা পার্থক্য বুঝতেই পারবেন না। বাইরে থেকেও বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি ‘স্মার্ট বল’।
🔬 ডিপ-সিম প্রযুক্তি ও নিখুঁত ভিএআর (VAR)
৪-প্যানেলের এই বলে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ডিপ-সিম প্রযুক্তি, যা বাতাসে বলের স্থিতিশীলতা (Stability) অনেক বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া স্টেডিয়ামের চারপাশের ক্যামেরা এবং বলের ভেতরের সেন্সর একসঙ্গে সিঙ্ক (Sync) হয়ে কাজ করবে। এর ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা গোললাইন সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) আরও দ্রুত এবং ১০০% নির্ভুলভাবে নিতে পারবেন।
সংক্ষেপে: ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘ট্রাইওন্ডা’ শুধু গোল করার একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি হতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক এবং নিখুঁত ফুটবল ট্র্যাকিং ডিভাইস!







