বঙ্গে প্রচারে রাহুলের তোপ, মোদি-মমতা দু’জনকেই একসঙ্গে নিশানা
বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের রাজনীতির কারণেই বাংলায় বিজেপির উত্থান ঘটেছে এই মন্তব্যও করেন তিনি।


শনিবার বিকেলে হুগলির শ্রীরামপুরে জনসভা করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন রাহুল। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, বাংলার তৃণমূল সরকারও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়। নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসঙ্গে লক্ষ্য করে তিনি তোপ দাগেন। রাহুলের কথায়, “নরেন্দ্র মোদি যে হিংসা ছড়ায়, তৃণমূলও বাংলায় তাই করে। নরেন্দ্র মোদি দুর্নীতি করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কম যায় না।”
এরপর বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, “আমি জামিনে আছি। আমার লোকসভার সদস্যপদ ছিনিয়ে নিয়েছে। ৩৬টি মামলা রয়েছে আমার বিরুদ্ধে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্রে গেলেও ১০-১৫ দিন অন্তর মামলায় হাজিরা দিতে হয়। আমায় ৫৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে, টানা পাঁচদিন।” এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্র কতগুলি মামলা করেছে বা তাঁকে কত সময় ধরে জেরা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূল বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করে না, বরং কংগ্রেসই নীতিগতভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং সঙ্ঘের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিচ্ছে।
তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে রাহুল ফের সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনাগুলিতে বহু আমানতকারীর টাকা প্রতারিত হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন তিনি। একসময় শিল্পে এগিয়ে থাকা বাংলা এখন পিছিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রাহুল। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গঙ্গার তীরবর্তী শিল্পাঞ্চলও এখন সংকটে রয়েছে।












