দলে ‘বেনোজল’ রুখতে ময়দানে আরএসএস, ‘তৎকাল বিজেপি’দের জন্য এবার কঠিন অগ্নিপরীক্ষা!
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি দলবদলের হিড়িক পড়েছে। গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে অনেকেই এখন স্বঘোষিত বিজেপি নেতা। কিন্তু এবার সেই ‘তৎকাল বিজেপি’দের দাপট কমতে চলেছে। দলে ঢুকে পড়া বেনোজল রুখতে এবং সংগঠনের রাশ শক্ত করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামছে আরএসএস (RSS)। শুরু হতে চলেছে এক বড়সড় শুদ্ধিকরণ অভিযান।


🔍 কেন এই শুদ্ধিকরণ অভিযান?
- বেনোজল আটকানো: দল ক্ষমতায় আসতেই নিচুতলা থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত বহু বিতর্কিত ও সুযোগসন্ধানী মুখ দলে ভিড়ে গিয়েছেন।
- আদি কর্মীদের ক্ষোভ: এই হঠাৎ গজিয়ে ওঠা নেতাদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন সেইসব আদি কর্মীরা, যাঁরা তৃণমূল আমলের কঠিন সময়েও দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন।
- দলবিরোধী কাজ: ‘তৎকাল’দের একাংশ এলাকায় এমন কিছু কাজ করছেন, যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে।
- নজরদারির অভাব: দলের শীর্ষস্তর থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হলেও বুথ, মণ্ডল বা জেলাস্তরে সঠিক নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।
🛡️ আরএসএসের ‘ছাঁকনি’ কৌশল
হঠাৎ করে বিজেপি হওয়া এই বড় অংশকে রাজ্য নেতৃত্ব সরাসরি দূরে ঠেলে দিতে পারছে না। তাই এবার আরএসএস নিজের হাতে ঝাড়াই-বাছাইয়ের দায়িত্ব তুলে নিয়েছে:
- আসল বনাম নকলের হিসাব: আরএসএসের কাছে ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ তালিকা রয়েছে—কারা দলের দুর্দিনের ‘আদি’ কর্মী আর কারা ফলপ্রকাশের পর রাতারাতি ‘নকল’ বিজেপি হয়েছেন।
- কড়া অনুশাসন: দলে টিকে থাকতে হলে আরএসএসের কড়া শৃঙ্খলা ও অনুশাসন মেনে চলতে হবে।
- সবুজ সংকেত ছাড়া পদ নয়: বুথস্তর থেকে শুরু করে মণ্ডল এবং জেলা কমিটি নতুন করে গঠিত হতে চলেছে। এই কমিটিগুলোতে কারা থাকবেন, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আরএসএসের সবুজ সংকেতের ওপর।
🛑 আগামী দিনে কী হতে চলেছে?
কমিটির রাশ এখন আরএসএসের হাতে: জেলাস্তরের সমস্ত কমিটির রাশ এবার পরোক্ষভাবে সংঘের হাতেই থাকছে। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই দলবদলি ও বিতর্কিত নেতাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আসল ও নকলের এই ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর ‘তৎকাল’ নেতাদের দাপট কতটা কমে এবং আদি কর্মীরা তাঁদের হারানো জমি কতটা ফিরে পান, এখন সেটাই দেখার।










