‘আশা’কে দেখানোতেই বিপদ! জিও নিউজকে নোটিস শাহবাজ সরকারের

কথায় রয়েছে, শিল্পের কোনও সীমানা থাকে না শিল্পীও তাই ভৌগোলিক সীমারেখা ছাপিয়ে যান। কিন্তু সেই শিল্পীকেই ঘিরে এবার বিতর্কের মুখে পড়তে হল একটি পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেলকে। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুসংবাদ সম্প্রচার করাকে কেন্দ্র করে আইনি সমস্যায় জড়িয়েছে জনপ্রিয় চ্যানেল ‘জিও নিউজ’। অভিযোগ, এই সম্প্রচারের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে শাহবাজ শরীফের সরকার।

সোমবার শিবাজী পার্কে যখন শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমিয়েছিলেন ভক্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, ঠিক তখনই পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (PEMRA)-র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের কাছে আইনি নোটিস পাঠানো হয়।
এই তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন জিও নিউজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ইলেকট্রনিক মিডিয়া এডিটরস অ্যান্ড নিউজ ডিরেক্টরস ইন পাকিস্তান’-এর সভাপতি আজহার আব্বাস। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, “কোনও কিংবদন্তি শিল্পীকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় তাঁদের কাজগুলো চ্যানেলে তুলে ধরা এবং সেই শিল্পীকে উদযাপন করা সবসময়েই একটি প্রচলিত প্রথার মধ্যে পড়ে।
আশা ভোঁসলের মতো মহীরুহ একজন শিল্পীর ক্ষেত্রেও আমরা যথাসম্ভব সেসব কভার করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আশাজি’র যতগুলো কালজয়ী এবং স্মরণীয় গান আমরা দেখিয়েছি, তার চেয়েও অনেকগুন বেশি গান সম্প্রচার করা উচিত ছিল আমাদের। অথচ, পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা PEMRA ঠিক এই বিষয়টিতেই বিধিনিষেধ আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
সূত্রের খবর, PEMRA-র পাঠানো নোটিসে চ্যানেলের বিরুদ্ধে ‘সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা বা অবমাননা’র অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, আশা ভোঁসলেকে নিয়ে সম্প্রচারটি ‘পেমরা অধ্যাদেশ, ২০০২’-এর ২০ নম্বর ধারা ভঙ্গ করেছে। উল্লেখযোগ্য, ২০১৮ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে ভারতীয় কনটেন্ট সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই নোটিস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জিও নিউজের সিইও মীর ইব্রাহিম রহমানকে আগামী ২৭ এপ্রিল সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ১৪ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘উরি’ হামলার পর থেকেই পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতে কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। একসময় বলিউডে সক্রিয় থাকা রাহাত ফতেহ আলি খান, আতিফ আসলাম, ফাওয়াদ খান, মাহিরা খানের মতো বহু শিল্পীরই এদেশে কাজ করা বন্ধ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যার প্রভাব পড়েছে ফাওয়াদ খানের ‘আবির গুলাল’ ছবির মুক্তিতেও, যা আটকে গিয়েছে। তবে এই সব কিছুর মাঝেও আলি জাফর, রীমা খান, আদনান সিদ্দিকির মতো বহু পাকিস্তানি তারকা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন। অথচ, এমন এক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর মৃত্যুসংবাদ সম্প্রচার করাই এবার পাকিস্তানে আইনি জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াল, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।












