রাহুলের মৃত্যুর পর আবেগঘন বার্তা প্রিয়াঙ্কার, ইন্ডাস্ট্রির ঐক্যে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

প্রিয় মানুষকে হারানোর শোকের মধ্যেও যেন থেমে থাকেননি তিনি। ব্যক্তিগত শোককে পাশে সরিয়ে রেখে মৃত্যুর নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের (Priyanka Sarkar) সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই কথাই বলছে।

গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ছবির শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিকভাবে সমুদ্রে প্রাণ হারান রাহুল। সেই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মাঝে সোশাল মিডিয়ায় একটি আবেগপূর্ণ বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।
কঠিন সময়ে পাশে থাকা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা (Priyanka Sarkar) লিখেছেন,’ধন্যবাদ জানাই সকলকে, এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। গত ৭ তারিখে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার যেন এক সুরে বাঁধল নিজেদের। একই ভাবনা, একই চিন্তা আর অফুরন্ত ভালোবাসায়।’
রাহুলের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবিতে একত্রিত হয়েছে গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ। কোনও সংগঠন বা গোষ্ঠীর বিভাজন নয় সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে এই দাবিতে। ফেডারেশন, আর্টিস্ট ফোরাম, ইমপা, টেকনিশিয়ান গিল্ড সব বিভাজন ভুলে এক ছাদের নিচে একজোট হওয়ার ছবি সম্প্রতি টলিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় ধরা পড়ে।
স্বামীর অকাল প্রয়াণের যন্ত্রণা সত্ত্বেও এই ঐক্যের ছবি দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর কথায়, ‘এখানে কোনো বিভাজন নেই, কোনো রাজনৈতিক রং নেই, নেই কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আমিত্বের সংঘাত। এখানে শুধু একটাই সত্য, আমরা একটি পরিবার। পরিবারেরই একজন সদস্যের প্রতি গভীর স্নেহ আর মমতা থেকেই আজকের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই। রাহুলকে কেউ অভিনেতা হিসেবে ভালোবেসেছেন, কেউ চেনেন অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউবা ভালোবেসেছেন লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একটি মৃত্যু আজ আমাদের গোটা পরিবারকে এক সুতোয় গেঁথে দিল।’
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেছেন, এই অকাল মৃত্যু শুধুমাত্র শোকের স্মৃতি হয়ে না থেকে ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করুক। অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘তবেই এই মানুষটি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন। এটাই হবে তার প্রকৃত উত্তরসূরি বা লেগাসি। আমাদের লক্ষ্য হোক একটাই, ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে। টেকনিশিয়ান হোন বা শিল্পী, মৃত্যুর পর নিজের সম্মান আর মর্যাদার লড়াই যেন কাউকে লড়তে না হয়।’












