ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’: অন্ধ্রপ্রদেশে ল্যান্ডফল, বাংলায় সরাসরি প্রভাব নেই—জানাল আবহাওয়া দফতর


খবর:বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-তে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবার (২ নভেম্বর) মধ্যরাতের পর থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে এটি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আঘাত হানবে। দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের ওঙ্গোলের কাছে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এই ঝড়ের ল্যান্ডফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার, যা সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বাংলা কি লন্ডভন্ড হবে?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র কোনও সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়বে না। ফলে রাজ্যজুড়ে বড় কোনও বিপর্যয় বা লন্ডভন্ড হওয়ার আশঙ্কা নেই।
তবে পরোক্ষ প্রভাবে মেঘের আগমন ও জলীয় বাষ্পের কারণে রাজ্যে সোম ও মঙ্গলবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলাভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- দক্ষিণবঙ্গ:
- সোম ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে।
- মঙ্গলবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া—এই ৯-১০টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
- বুধবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে শুরু করবে এবং শনিবার পর্যন্ত নতুন করে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
- উত্তরবঙ্গ:
- উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আকাশ মেঘলা থাকবে।
- সোম ও মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলীয় সতর্কতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
| অঞ্চল | পরিস্থিতি ও সতর্কতা |
| পশ্চিমবঙ্গ উপকূল | সরাসরি প্রভাব না থাকায় রাজ্য উপকূলে কোনও বিশেষ বিপদসংকেত জারি করা হয়নি। তবে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতি ৫০-৬০ কিমি পৌঁছাতে পারে। |
| অন্ধ্রপ্রদেশ | পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উপকূলীয় নিচু এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) মোতায়েন করা হয়েছে। |












