হারের পরও ‘কনগ্র্যাচুলেশনস’, সাংবাদিকের মন্তব্যে হাসলেন নাইট অধিনায়ক রাহানে

একাধিক ম্যাচ খেলেও এখনও জয়ের মুখ দেখেনি কেকেআর। বর্ষার কারণে একটি ম্যাচে পয়েন্ট পেলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা কাটেনি। শুক্রবার আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর সাংবাদিক বৈঠকে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে উপস্থিত এক মহিলা সাংবাদিক নাইট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেকে অভিনন্দন জানান। টানা ব্যর্থতার মাঝে এমন মন্তব্যে খানিকটা বিস্মিত হলেও হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া দেন রাহানে। তবে এতে কি অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ব্যর্থতা আড়াল করা সম্ভব?

ঘরের মাঠ হোক বা বাইরে, কোনও ম্যাচেই জয় পায়নি কেকেআর। প্রতিটি হারের পরই রাহানে দলের উন্নতির আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে সেই পরিবর্তন চোখে পড়েনি। শুক্রবারের ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে হার স্বীকার করতে হয় দলকে। একইসঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠছে। দল গঠন থেকে ম্যাচ চলাকালীন কৌশল দুই ক্ষেত্রেই সমালোচনার মুখে পড়ছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকের প্রশংসার উত্তরে রাহানে বলেন, “আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি যে কঠোর পরিশ্রম করছি সেটা কেউ তো দেখতে পেল।”
রাহানের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থাকলেও তার প্রতিফলন দলের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে না। নেতৃত্ব হিসেবে দলের পরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা স্পষ্ট নয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। গুজরাটের বিরুদ্ধে ম্যাচেও ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে একাধিক পরিবর্তন করেন তিনি। আগের ম্যাচে যেখানে সুনীল নারিন ওপেন করেছিলেন, সেখানে এই ম্যাচে নিজেই ওপেন করতে নামেন রাহানে। অথচ নারিন ওপেনিংয়ে কার্যকর, সেটি প্রমাণিত। তবুও নিজের জায়গা বদলে ওপেন করতে এসে ব্যর্থ হন অধিনায়ক।
এছাড়াও ব্যাটিং অর্ডারে আরও কিছু অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত দেখা যায়। রিঙ্কু সিং ও রমনদীপ সিংয়ের আগে অনুকূল রায়কে ব্যাট করতে পাঠানো হয়, যা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। গুজরাটের শক্তিশালী টপ অর্ডার শুভমান গিল, সাই সুদর্শন ও জস বাটলার থাকা সত্ত্বেও শুরুতেই স্পিন আক্রমণে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নারিন বা বরুণ চক্রবর্তীকে আগে ব্যবহার না করে অনুকূলকে তৃতীয় ওভার দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও স্পষ্ট নয়।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে রাহানে জানান, বিকল্পের অভাবেই অনুকূলকে বল হাতে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর দাবি, বোলাররা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং তাদের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। তবে এই ব্যাখ্যায় সমর্থকদের মন ভরবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।












