‘কেউ শত্রু নন, কিন্তু…’ মমতার কংগ্রেসে ফেরার জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক অধীর, বৈঠক রাহুলের সঙ্গে!
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: দীর্ঘ ২৫ বছর পর কি ফের ঘরের মেয়ে ঘরেই ফিরছেন? ২০২৬-এর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেস পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে জাতীয় কংগ্রেসে— এমন গুঞ্জনের মাঝেই এবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দিল্লির হাইভোল্টেজ টানাপোড়েনের মাঝেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সেরেছেন তিনি, আর তারপরেই দিয়েছেন এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া।


📉 ভরাডুবির পর তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন!
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই চরম সংকটে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল। সূত্রে খবর:
- তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় (MLA) এবং সংসদীয় (MP) দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব অস্বীকার করে নতুন ‘ব্লক’ তৈরি করেছেন।
- দলের সিংহভাগ জনপ্রতিনিধিই আর মমতার নেতৃত্বে আস্থা রাখছেন না।
- এই রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটের মাঝেই গত দু’দিন ধরে দিল্লিতে দরবার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের পাশাপাশি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দফায় দফায় দীর্ঘ বৈঠক করেছেন তাঁরা।
অন্দরমহলের খবর: কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন তাঁর দল তৃণমূলকে পুরোপুরি কংগ্রেসে মিশিয়ে দেন। বিনিময়ে তাঁকে জাতীয় কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদের টোপ দেওয়া হয়েছে। তবে মমতা এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
🎙️ “ভোটে হেরেছে বলেই এখন দু’বেলা দিল্লি ছুটছেন মমতা”: তোপ অধীরের
তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সরব হয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানান:
- ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, আদর্শের লড়াই: “তৃণমূলের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বৈরিতা ছিল না। রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সময় তৃণমূল আমার দলকে খতম করতে চেয়েছিল, আর আমি কংগ্রেসকে রক্ষা করতে চেয়েছি। এটাই আমার রাজনৈতিক ধর্ম।”
- সুবিধাবাদী রাজনীতি: মমতাকে নিশানা করে অধীরবাবু বলেন, “ভোটে হেরেছে বলেই মমতা ব্যানার্জি এখন দু’বেলা দিল্লিতে কংগ্রেস নেতাদের বাড়ি ছুটছেন। ভোটের আগে তো তাঁকে আসতে দেখিনি!”
❓ নিচু তলার কর্মীদের মনে সংশয়, আগামীকালই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত?
সংবাদমাধ্যমে তৃণমূল-কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণের খবর ছড়াতেই পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সংশয় তৈরি হয়েছে। এতদিন রাজ্যে যাদের বিরুদ্ধে মার খেয়ে, রক্ত দিয়ে লড়াই করলেন কর্মীরা, তাদেরই দলে স্বাগত জানাতে হবে? এই প্রশ্নে অধীরবাবু বলেন, “কর্মীদের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে দল যদি তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, নিশ্চয়ই আমাকে জানাবে।”
আগামীকাল দিল্লিতে সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালের একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকেই তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।
🤝 রাহুলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অধীরের
হাইকমান্ড মমতার সঙ্গে কথা বললেও, বাংলার বাঘকে যে তাঁরা এড়িয়ে যাচ্ছেন না, তা স্পষ্ট। মমতা-সোনিয়া বৈঠকের আগেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অধীর চৌধুরী। বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি হাইকম্যান্ডকে জানিয়ে অধীরবাবু বলেন, “রাহুল গান্ধী আমার কাছে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলেন। আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, বাংলায় এখন আমাদের (কংগ্রেসের) পরিস্থিতি ভালো এবং সংগঠন আরও বাড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।”
এখন দেখার, আগামীকাল বেণুগোপালের বৈঠক থেকে বাংলার রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরে!











