বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস ও তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

Published on: July 21, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

কলকাতা: প্রতিবছরের মতো ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে এ বারও সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। তবে এ বারের দৃশ্যপট বেশ কিছুটা ব্যতিক্রমী এবং নাটকীয় সংঘাতপূর্ণ।

১. ‘আপনাদের আর প্রয়োজন নেই’: ঋতব্রত শিবিরকে সাফ বার্তা মমতার

কালীঘাট তৃণমূলের সভা থেকে দলের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত শিবিরকে দলে না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে তিনি বলেন:

“ক্ষমা করুন, আপনাদের আর প্রয়োজন নেই, ধনে-মানে-প্রাণে ভাল থাকুন।”

তিনি ঋতব্রত শিবিরকে ‘বিজেপির বি টিম’ বলে কটাক্ষ করেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে এই টিমও দ্রুত ভেঙে যাবে। ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখানো হচ্ছে দাবি করে মমতা বলেন, “সব চোরগুলো চলে গিয়েছে, বেঁচে গিয়েছি। ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে কিছু ক্ষণের জন্য চুপ রাখা যায়।” নতুনদের নিয়ে তিনি এক ‘সোনার খনি’র মাধ্যমে দল নতুন করে শুরু করবেন বলে জানান।

২. শুভেন্দু অধিকারীকে নাম না করে তোপ

শুভেন্দু অধিকারীর নাম না-করে তাঁকে কড়া আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ তোলেন যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, কেবল তৃণমূলের কোল খালি করাই আসল লক্ষ্য। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন:

“মুখ খুললে আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, মুখোশ খুলে দেব।”

একই সঙ্গে বিজেপিকে ‘তারকাটা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করে মমতা অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে ২১ জুলাইয়ের সভা পণ্ড করতে বিজেপির লোকেরা বিদ্যুতের তার কেটে দিয়েছিল। পাশাপাশি, সকালে তাঁর বাড়ি থেকে বেরোনোও বিজেপি আটকাতে চেয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। বাধা দিলে তিনি নিজে জেলায় জেলায় বেরোবেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

৩. দুটি পৃথক মঞ্চে রাজনৈতিক সমীকরণ

আজ একই দিনে দুটি ভিন্ন জায়গায় সমাবেশের ছবি দেখা গিয়েছে:

সভাস্থলউল্লেখযোগ্য উপস্থিত ব্যক্তি ও বিবরণ
কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চউপস্থিত: কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রাজীব কুমার, সাগরিকা ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, অশোক দেব, গৌতম দে প্রমুখ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রলোভন সত্ত্বেও যে শহিদ পরিবারগুলি কালীঘাটের সভায় এসেছিলেন, তাঁদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মেয়ো রোডের সভা (ঋতব্রত তৃণমূল)উপস্থিত: ফিরহাদ হাকিম, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিউলি সাহা, অরূপ চক্রবর্তী, অনুব্রত মণ্ডল, বিপ্লব মিত্র (রাজ্য সভাপতি), জাভেদ খান, দেবাশিস কুমার, মদন মিত্র, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: রঞ্জিত দাস, মহম্মদ খালেদ, দিলীপ দাস ও রতন মণ্ডলের মতো কয়েকটি শহিদ পরিবারের সদস্যরা মেয়ো রোডের সভায় যোগ দেন।

৪. হাওড়া স্টেশন ও ফেরিঘাটে ভিন্ন ছবি

অন্যান্য বছরের ২১ জুলাইয়ের চেনা ভিড় কিন্তু এ দিন দেখা যায়নি হাওড়া স্টেশন বা ফেরিঘাটে। রাস্তায় ছিল না তৃণমূলের তোরণ বা গেট, বাজেনি লাউডস্পিকারও। অন্যান্য বারের মতো বাড়তি জনস্রোত ছাড়াই বেশ শান্ত ছিল স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকা।

৫. ‘মঞ্চ ভাঙচুর’ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল

২১ জুলাইয়ের ‘মঞ্চ ভাঙচুর’-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ায় আইনি লড়াই। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। ঘটনায় পুলিশ ঠিক কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে জবাব তলব করেছেন মাননীয় বিচারপতি।

Join Telegram

Join Now