শুটিং ফ্লোরে স্ক্রিপ্ট হাতে বিষণ্ণ প্রিয়াঙ্কা, তবুও লড়াইয়ে অটল; পাশে দাঁড়াল নেটদুনিয়া

স্বামী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর শোক এখনও তাজা, তবুও পেশাদারিত্বে কোনও খামতি রাখলেন না অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। কঠিন মানসিক পরিস্থিতির মধ্যেও শুক্রবার তিনি যোগ দেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘তারকাটা’ সিরিজের শুটিংয়ে। গত ২৯ মার্চ এই সিরিজের শুটিং চলাকালীনই স্বামীর মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে হঠাৎই সেট ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল তাঁকে।

ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়, সেগুলির শুট শেষ করতেই এদিন ফের কাজে ফিরলেন অভিনেত্রী। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত শোকপ্রকাশ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ প্রশ্ন তুললেও, অন্যদিকে বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন।
পরিচালক শমীক রায়চৌধুরীর এই সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। এখনও কয়েক দিনের শুটিং বাকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর আগামী সপ্তাহে কাজে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে শুক্রবারই কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং করতে হয় তাঁকে। এই খবর সামনে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায়। এরই মধ্যে শুটিং ফ্লোর থেকে একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে দেখা যায়, বিষণ্ণ মুখে স্ক্রিপ্ট হাতে নিয়ে শটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেই দৃশ্য দেখেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুরাগীরা এবং তাঁকে সাহস জোগাতে শুরু করেন।
কেউ লিখেছেন, ‘সহজের জন্য এই লড়াই তোমাকেই জিততেই হবে’, আবার কেউ বলেছেন, ‘কাজে ব্যস্ত থাকলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে তুমি। যেটা এই মুহূর্তে তোমার সবথেকে বেশি দরকার।’ অনেকে আবার প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর ছেলে সহজের মানসিক শক্তির জন্য প্রার্থনাও করেছেন।
গত কয়েকদিনে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেত্রী। প্রিয়জনকে হারানোর শোক সামলানোর সুযোগও যেন পাননি ঠিকমতো। স্বামীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তিনি কলকাতার বাইরে পর্যন্ত ছুটেছেন, আবার কখনও শিল্পী মহলের সঙ্গে একযোগে ন্যায়বিচারের দাবিতেও সরব হয়েছেন। একইসঙ্গে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন এবং সন্তান সহজকে আগলে রেখেছেন সর্বক্ষণ। তবুও নিজের ব্যক্তিগত কষ্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
মাত্র তেরো বছর বয়সে পিতৃহারা সহজ কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তবে সাম্প্রতিক এই ভিডিও সামনে আসার পর অনেকেই প্রিয়াঙ্কাকে এক সাহসী মা হিসেবে কুর্নিশ জানিয়েছেন এবং তাঁর লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।











