‘বেছে বেছে অযোগ্যদের টাকা দিচ্ছে ওরা’, অন্নপূর্ণা যোজনায় তৃণমূলকে বিঁধে জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠক স্থগিত অগ্নিমিত্রার

মেদিনীপুর: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও অ্যাকাউন্টে না পৌঁছানোয় রাজ্য জুড়ে মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভের পারদ। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে বঞ্চিত মহিলাদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মাঝপথেই প্রশাসনিক বৈঠক মুলতুবি করে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হন তিনি। পুরো গণ্ডগোলের পেছনে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে তোপ দেগেছেন মন্ত্রী।

জেলাশাসকের দপ্তরে তীব্র উত্তেজনা
শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে যান অগ্নিমিত্রা পাল। দপ্তরে ঢোকার মুখেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা না পাওয়া একদল মহিলা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আবেদন করা সত্ত্বেও কেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটে নাগাদ বৈঠক থামিয়ে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং বিধায়ক শংকর গুছাইতকে সঙ্গে নিয়ে নিচতলায় নেমে আসেন মন্ত্রী। তিনি ক্ষুব্ধ মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁদের ‘এনরোলমেন্ট নম্বর’ আধিকারিকদের কাছে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। মন্ত্রীর আশ্বাসে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তৃণমূলকে তোপ ও ধৈর্যের আবেদন
সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন:
- প্রশাসনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: “বলতে খারাপ লাগছে, অনেক তৃণমূলের লোক ভিতরে বসে রয়েছে এবং গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। ‘বেছে বেছে অযোগ্যদের টাকা দিচ্ছে ওরা’। আমি গোটা বিষয়টি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও জানাচ্ছি।”
- মহিলাদের প্রতি আশ্বাস: “আমার মা-বোনেদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। প্রায় ২ কোটি মহিলা আবেদন করেছেন, সেই তথ্য সিস্টেমে আপলোড করতে কিছুটা সময় লাগছে। আগামী দিনে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়িও একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছিলেন যে, ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্যদের এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে।
পাল্টা তোপ তৃণমূলের
অগ্নিমিত্রা পালের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তর্জা। মন্ত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “ভোটের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যের মহিলাদের এখন বঞ্চিত করছে বর্তমান সরকার। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন তৃণমূলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।”











