বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

বিশ্বকাপের ‘স্মার্ট বল’-এর অন্দরের প্রযুক্তি

Published on: June 2, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো চার্জ দিতে হবে ফুটবলও! জানুন বিশ্বকাপের ‘স্মার্ট বল’-এর অন্দরের প্রযুক্তি

ক্রীড়া ডেস্ক: মাঠের খেলা এখন আর শুধু প্লেয়ারদের পা বা কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সেখানে প্রবেশ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তি। 2026 ফুটবল বিশ্বকাপ জুড়েই দর্শকদের মনে একটি দৃশ্য বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে— ম্যাচের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো প্লাগ-ইন করে চার্জ দেওয়া হবে ফুটবল! সাধারণ চামড়ার বলের যুগে যা ছিল ভাবনার অতীত, আধুনিক ফুটবলে সেটাই এখন বাস্তব।

বিশ্বকাপের বল কেন চার্জ দিতে হয় এবং এর ভেতরে কী এমন প্রযুক্তি লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে রইল একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন।

কেন চার্জ দিতে হয় ফুটবল?

বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলগুলোর ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে (Centre) একটি বিশেষ ডিভাইস বা সেন্সর বসানো থাকে। এই সেন্সরটি সম্পূর্ণ ব্যাটারি চালিত। যেহেতু এটি একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, তাই সচল রাখার জন্য মোবাইল ফোনের মতোই ম্যাচের আগে এটিকে চার্জ করতে হয়। একবার ফুল চার্জ দিলে এই বলের ভেতরের সেন্সরটি মাঠে টানা ৬ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে।

বলের ভেতরের আসল প্রযুক্তিটি কী?

বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘অ্যাডিডাস’ (Adidas) এই বলের ভেতরে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাকে বলা হয় ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ (Connected Ball Technology)। বলের ভেতরে মূলত দুটি মূল সেন্সর কাজ করে:

  • আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (UWB) সেন্সর: এটি মাঠে বলের নিখুঁত অবস্থান (Position) ট্র্যাক করে। মাঠের চারপাশে থাকা রিসিভারের সাহায্যে বলটি ঠিক কোন সেকেন্ডে কোথায় আছে, তা জানা যায়।
  • ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU) সেন্সর: এটি বলের গতিবিধি বা মুভমেন্ট ট্র্যাক করে। বলটিতে প্রতি সেকেন্ডে কতবার লাথি মারা হচ্ছে, তার গতি কত, বা বলটি কত বেগে ঘুরছে—তার সমস্ত ডেটা এই সেন্সর সংগ্রহ করে।

কীভাবে সাহায্য করে এই প্রযুক্তি?

1.ডেটা সংগ্রহ:প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার.

বলটিতে লাথি মারার সাথে সাথেই ভেতরের সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার করে ডেটা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) রুমে পাঠাতে থাকে।

2.আউটমেটেড অফসাইড ট্র্যাকিং:সেমি-অটোমেটেড প্রযুক্তি.

স্টেডিয়ামের ছাদের নিচে থাকা বিশেষ ট্র্যাকিং ক্যামেরা প্লেয়ারদের শরীরের ২৯টি পয়েন্ট ট্র্যাক করে। বলের সেন্সর থেকে পাওয়া ডেটা আর ক্যামেরার ডেটা একসঙ্গে মিলিয়ে সেকেন্ডের মধ্যে অফসাইড গ্রাফিক্স তৈরি হয়।

3.নিখুঁত সিদ্ধান্ত:রেফারির চূড়ান্ত রায়.

কোনো প্লেয়ার বলটি হেড করেছেন নাকি তাঁর হাত লেগেছে (Handball), অথবা বলটি গোললাইন পার করেছে কি না—তা খালি চোখে ধরা না পড়লেও এই সেন্সর নিখুঁতভাবে রেফারির স্ক্রিনে তা ফুটিয়ে তোলে।

খেলোয়াড়দের কি কোনও অসুবিধা হয়?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ভেতরে ডিভাইস থাকার কারণে বলটি কি ভারী হয়ে যায়? উত্তর হলো— না। বলের ভেতরের এই সেন্সরটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। বলের ব্লাডারের ঠিক মাঝখানে এটিকে এমনভাবে সাসপেন্ড বা ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে লাথি মারার সময় খেলোয়াড়রা একদমই বুঝতে না পারেন যে ভেতরে কিছু রয়েছে। বলের ভারসাম্য বা এয়ার অ্যারোডাইনামিক্সে এর কোনও প্রভাব পড়ে না।

প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনের ফলেই ফুটবল বিশ্বকাপ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত এবং বিতর্কহীন হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই ম্যাচের আগে ফুটবলকে বুট পরা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নিয়ন আলোর নিচে চার্জারের প্লাগেও সময় কাটাতে হয়।

Join Telegram

Join Now