কলকাতা: ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় রদবদলের পর প্রশাসনের রাশ হাতে নিয়েই একগুচ্ছ কড়া ও স্বচ্ছ বার্তা দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে রাজ্যের শীর্ষ সচিবদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে সরকারি কোনো হোর্ডিং বা ফলকে তাঁকে খুশি করার জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা যাবে না।


‘আমিত্ব’ নয়, সরকার চলবে ‘আমরা’ নীতিতে
প্রশাসনিক সংস্কারের ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়, বরং সংবিধান এবং নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলবে। নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি সচিবদের অভয় দিয়ে বলেন:
- কাউকে তোয়াজ বা খুশি করার জন্য কাজ করার প্রয়োজন নেই।
- প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
- পূর্বতন সরকারের অনুকরণে হোর্ডিং বা বিজ্ঞাপনে ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধ করতে হবে।
- ভয়মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে সরকারি আধিকারিকদের।
“সরকার চলে তথ্য ও নিয়মের ওপর ভিত্তি করে। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, বরং ‘আমরা’ নীতিতে বিশ্বাসী। সংবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আমরা এগোব।” — মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
আর্থিক শৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রূপায়ন
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি অর্থের অপচয় রোধে বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি সচিবদের নির্দেশ দেন:
- অপ্রয়োজনীয় খরচ ছাঁটাই: যেখানে কাজের প্রয়োজন সেখানে খরচ হবে, কিন্তু আলঙ্কারিক বা অপ্রয়োজনীয় কাজে জনগণের টাকার অপচয় রুখতে হবে।
- কেন্দ্রীয় প্রকল্প: আয়ুষ্মান ভারতসহ যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প দীর্ঘদিন রাজ্যে থমকে ছিল, সেগুলি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- আর্থিক অনুদান: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহিলা ও বেকার ভাতার মতো জনকল্যাণমূলক কাজগুলো কীভাবে দ্রুত শুরু করা যায়, তার নীল নকশা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ আধিকারিকরা
এদিনের বৈঠকে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
দল ও সরকার আলাদা: বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের
একই সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে, আর দল দলের মতো। এটি কোনো বিশেষ দলের সরকার নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। সরকারি কাজে দল কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।”












