বর্ধমান রাজনীতি দেশ-বিদেশ দক্ষিণবঙ্গ ক্রাইম স্বাস্থ্য ধর্ম লাইফ-স্টাইল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি চাকরি কৃষি-কাজ রেসিপি ক্রিকেট ফুটবল
---Advertisement---

রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তাপমাত্রা তুঙ্গে

Published on: April 27, 2026
---Advertisement---

Join WhatsApp

Join Now

দ্বিতীয় দফার আগে শেষ প্রচার, রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তাপমাত্রা তুঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে শেষ হল প্রচারের নির্ধারিত সময়সীমা, আর সেই শেষ দিনের প্রচারপর্ব ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হল এক উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক আবহ, যেখানে শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি বার্তাও দেন।

একদিকে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah, বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee সবাই মিলিয়ে শেষ দিনের প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

তবে প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফার প্রচারপর্ব পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ থাকেনি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পূর্ব বর্ধমান রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে, যা নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তারা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় শাসক ও বিরোধী পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে গ্রেফতারিও হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় দফার ভোটকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।

প্রচারের শেষ দিনে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে একমাত্র জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যেখানে আগের রাতেই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর সভা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রাজ্যে পরিবর্তনের পক্ষে জোর সওয়াল করেন এবং দাবি করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে সুযোগ দেওয়ার পর এবার বিজেপিকে সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে যে সাড়া তিনি পেয়েছেন, তা থেকে তাঁর বিশ্বাস জন্মেছে যে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে এবং ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁকে আবার রাজ্যে আসতে হবে।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারের শেষ দিনে কোনও জনসভা না করে একাধিক পদযাত্রায় অংশ নেন, যা তাঁর প্রচারের কৌশলের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক স্লোগানের পরিবর্তন, যেখানে তিনি আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার আরও জোরালো ভাষায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ভোটের ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শেষ দিনের প্রচারে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তাঁর বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেহালা পশ্চিম এবং হুগলির চন্দননগরে তাঁর রোড শো রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, ভোটের পরও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থাকবে এবং সম্ভাব্য অশান্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, ভোটের সময় এবং পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে।

এই নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি শেষ দিনের প্রচারেও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। গোঘাট ও আরামবাগে তাঁর সভাগুলি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে, বিশেষ করে সেখানে এক সাংসদের উপর হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত তা তাঁদের জানা আছে এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হবে। তাঁর বক্তব্যে ভোট-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়, যা নির্বাচনী আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এই প্রচারপর্বে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath-এর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য ছিল, যিনি একাধিক সভায় অংশ নিয়ে বিজেপির পক্ষে প্রচার করেন। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং তিনি দাবি করেন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে উন্নয়নের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।

সমগ্র প্রচারপর্ব জুড়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্রতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই মাঠপর্যায়ে উত্তেজনার ঘটনাও সামনে এসেছে। জগদ্দল, গোঘাট, পূর্বস্থলি এবং ভাঙড় এই সমস্ত এলাকায় সংঘর্ষ ও অশান্তির খবর পাওয়া গেছে, যেখানে দুই পক্ষের কর্মীরা আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ঘটনাগুলির উপর নজর রাখছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে।

প্রথম দফার ভোটগ্রহণ যেখানে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল, সেখানে দ্বিতীয় দফার আগে এই বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনাগুলি প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য হল আসন্ন ভোটকে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে। এই প্রেক্ষাপটে শেষ দিনের প্রচার যেমন রাজনৈতিক বার্তা বহন করেছে, তেমনই তা রাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতির জটিলতাকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।

Join Telegram

Join Now