ভবানীপুরে ভোট লুটের আশঙ্কা! শাহকে নিশানা করে ‘কাঁচকলা’ মন্তব্য মমতার
উত্তরপাড়ার নির্বাচনী সভা থেকে আবারও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেন। অমিত শাহকে ‘মোটা ভাই’ বলে কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন, “নন্দীগ্রামে সিআরপিএফকে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ে মিটিং করে বলেছে ভোট স্লো করে দাও। যাতে মানুষ ভোট দিতে না পারে। আমার ভবানীপুরে দায়িত্ব দিয়েছে। আমার বয়েই গেছে। তোরা কাঁচকলা করবি আমার।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভবানীপুরে বিজেপি বহিরাগতদের ঢুকিয়েছে এবং বাসে করে লোক আনা হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিজেপির একাধিক হেলিকপ্টার প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে তৃণমূল সেই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। অন্নপূর্ণ ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, ভোটের পর বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহলে ওই ফর্মগুলি “গড়াগড়ি খাচ্ছে” খাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, অন্য রাজ্যের মানুষ বাংলার ভোটারদের সতর্ক করছেন যাতে তাঁরা একই ভুল না করেন, কারণ পরবর্তীতে তার খেসারত দিতে হচ্ছে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ভোট মিটলেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। কৃষকদের আত্মহত্যা বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের অভাব নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের ধর্মীয় শপথ করিয়ে বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে বলা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। বিজেপিকে ‘হানাদার’ ও ‘হল্লা বাহিনী’ আখ্যা দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, “ও মন্ত্রী মশাই, ষড়যন্ত্রী মশাই, থেমে থাক। চালাকি আর ভেলকি চলবে না।”
প্রথম দফার ভোটে বেশি অংশগ্রহণের পিছনে এসআইআর ও এনআরসি নিয়ে আতঙ্ককেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। বিজেপিকে আবারও বাঙালি-বিরোধী দল বলে আক্রমণ করে তিনি জানান, মহাকাল মন্দিরে দেশের বৃহত্তম শিবমূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।











