র্যোগে দার্জিলিং পৌঁছাতে না পেরে ভিডিওবার্তায় শাহ, গোর্খা ইস্যুতে তোপ

খারাপ আবহাওয়ার কারণে দার্জিলিংয়ের সভায় যোগ দিতে পারলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার লেবঙে তাঁর সভা নির্ধারিত থাকলেও, বাগডোগরায় বিমান অবতরণ করার পর সেখান থেকে হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি না মেলায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপর তিনি মালদহে রওনা দেন এবং সেখান থেকেই একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে সভায় বক্তব্য রাখেন। সেই বার্তায় তৃণমূল সরকারের ‘অপশাসন’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি, পাশাপাশি গোর্খা ইস্যুতেও গুরুত্ব দেন।

প্রথম দফার নির্বাচন (West Bengal Assembly Election) ঘনিয়ে আসায় প্রচারে জোর বাড়িয়েছে সব দলই। আগামী ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত বাংলায় প্রচারে আসছেন অমিত শাহ (Amit Shah)। এদিন তাঁর দার্জিলিং ও কার্শিয়ং বিধানসভা কেন্দ্রে সভা করার কথা ছিল, যেখানে পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ দুই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। বাগডোগরা থেকে হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি না মেলায় তিনি মালদহে যান এবং সেখান থেকেই প্রায় ৭ মিনিটের একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে প্রচার সারেন।
এই ভিডিওবার্তায় শাহ প্রথমেই জানান, আগামী ২১ এপ্রিল শুকনায় ভোট (West Bengal Assembly Election) প্রচারে যোগ দেবেন তিনি। পাশাপাশি বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরপর পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে অমিত শাহ বলেন, ”নিশ্চিত রূপেই গোর্খা সমস্যা হবে।” এই ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি গোর্খা সমস্যার সমাধানে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছেন, কিন্তু রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সফল হয়নি।
তিনি বলেন, ”গত দেড় বছরে তিনবার বৈঠকের কথা বলেছি। তবে মমতাদিদি কিংবা রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি দিল্লি যায়নি।” পাশাপাশি জানান, পাহাড় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাজ্যে এসে বৈঠক করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন এবং তার জন্য সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময়ও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শাহের বক্তব্য, ”গোর্খারা ন্যায়, অধিকার পান, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না। তবে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার পরেই গোর্খা সমস্যার সমাধান হবে। আর এটাই হবে প্রথম কাজ।”
এছাড়াও তিনি আশ্বাস দেন, গোর্খাদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। উল্লেখ্য, গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অতীতে পাহাড়ে তীব্র আন্দোলন হয়েছে এবং রক্তক্ষয়ও ঘটেছে। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত। তবে ভোটের আগে শাহের মুখে ফের গোর্খা ইস্যু উঠে আসা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।












