কালিয়াচকে হিংসার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে ‘মূলচক্রী’ হিসেবে অভিযুক্ত মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

মোথাবাড়ি ঘটনার তদন্তে শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ইটাহারের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে আটক করা হয়। জানা গিয়েছে, তিনি বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তার আগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী মোফাক্কেরুল ইসলাম রায়গঞ্জ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি কলকাতা হাই কোর্টেও তিনি মামলা পরিচালনা করতেন। কলকাতাতেও তাঁর একটি বাসস্থান রয়েছে। ২০২১ সালে ওসাদউদ্দিন ইয়েওসি-র দল মিমের হয়ে ইটাহার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি, যদিও নির্বাচনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে সমাজমাধ্যমে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘আপনারা ভালো থাকুন’।
মালদহের মোথাবাড়ি ঘটনার প্রেক্ষিতে মোফাক্কেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জনতাকে উসকানি দেওয়া এবং সংগঠিত করার অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামণ বলেন, “এই ঘটনায় ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তার ৩৫ জন। আমাদের কাছে খবর ছিল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল বাগডোগরা বিমানবন্দের আছে। তারপরই গ্রেপ্তার করা হয়।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর-এ নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস ঘেরাও থেকে শুরু করে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ পর্যন্ত পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভে রাতভর অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় এসআইআর সংক্রান্ত কাজে আসা বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা আটকে পড়েন এবং পরে ভোরবেলায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে কড়া ভর্ৎসনা করে। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং এসপিকে শোকজ করা হয়। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এই ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ-র মাধ্যমে হতে পারে। পরে সন্ধ্যায় কমিশন এনআইএ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তার আগেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম।









